
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রেস মিনিস্টার হিসেবে ফয়সাল মাহমুদের নিয়োগ বাতিল করেছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার সাড়ে নয় মাস আগেই ফয়সালকে সরিয়ে দেওয়াতে নানা প্রশ্ন উঠছে। ঠিক কী কারণে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। রবিবার বাংলাদেশের জনপ্রশাসন মন্ত্রকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফয়সলের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে। বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বাংলা আউটলুকের সম্পাদক ফয়সালকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দুই বছরের জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের অগাস্টে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসে। তার পরেই দু’বছরের চুক্তির ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর হাই কমিশনের প্রেস উইংয়ে নিয়োগ করা হয় ফয়সালকে। চুক্তি অনুযায়ী এখনও তাঁর মেয়াদ ছিল ২৩ নভেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বিএনপি যখন নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল। নিয়োগ চুক্তি বাতিলের কোনও নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে।
বিএনপির জয়
১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয়। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট গ্রহণ বাতিল হয়। ২৯৯টি আসনের মধ্যে দুটি আসনে জয়ী বিএনপির প্রার্থীর ফলাফল প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে (ঋণ খেলাপের কারণে)। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি। বিএনপি জোটের শরিকেরা পেয়েছে ৩টি আসন। সব মিলিয়ে এখন বিএনপি জোটের আসনসংখ্যা ২১২। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি।
জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ৭৭ আসন নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় যাচ্ছে। এই জোটের প্রধান দল জামায়াত ৬৮ আসন পেয়েছে। আর এনসিপি পেয়েছে ৬টি আসন। হাসিনার আওয়ামী লিগ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯.৪৪ শতাংশ।
তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এক বিবৃতিতে, কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে যে অনুষ্ঠানে ওম বিড়লার উপস্থিতি ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কের প্রতি কতটা গুরুত্ব দেয় তা তুলে ধরে এবং দুই প্রতিবেশীর মধ্যে ভাগ করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটায়।