
তদন্তকারী সংস্থা। পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি শাহজাদ ভাট্টির সঙ্গে জড়িত তিনটি মামলার তদন্তে এই অভিযান চালানো হয়।
সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, NIA-এর একাধিক দল দুটি রাজ্যের মোট ন'টি জেলায় এই তল্লাশি চালায়। তদন্তের স্বার্থে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তল্লাশি চালিয়ে গোয়েন্দারা বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস, গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং বিভিন্ন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য বাজেয়াপ্ত করেছেন। NIA-এর স্ক্যানারে থাকা ব্যক্তিদের কার্যকলাপ সংক্রান্ত তথ্যও এর মধ্যে রয়েছে।
NIA এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত করা সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ ফরেনসিক এবং প্রযুক্তিগত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে সীমান্তের ওপার থেকে চালানো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ফাঁস করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিসও পাঠানো হয়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে জঙ্গি বনে যাওয়া গ্যাংস্টার ভাট্টির চালানো নেটওয়ার্কের পর্দাফাঁস করাই এই তদন্তের মূল লক্ষ্য। NIA-এর কথায়, "এই তল্লাশির মূল উদ্দেশ্য ছিল ভাট্টির সহযোগী এবং তিনটি মামলার সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করা।"
NIA-এর তদন্তে উঠে এসেছে যে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে পাঞ্জাবের জলন্ধরে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার রজার সান্ধুর বাড়িতে গ্রেনেড হামলার পিছনে শাহজাদ ভাট্টির হাত ছিল। এই বছরের এপ্রিলে NIA এই মামলায় ভাট্টিকে পলাতক দেখিয়ে এবং আরও একজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে। তদন্তে আরও জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে হরিয়ানার সিরসার মহিলা পুলিশ স্টেশনে বিস্ফোরণ এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হরিয়ানার আম্বালার বলদেব নগর পুলিশ স্টেশনে বিস্ফোরণের মূল পরিকল্পনাকারীও ছিল এই ভাট্টি।
সিরসা মামলায় NIA ২০২২ সালের মে মাসে ভাট্টি এবং আরেক পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলার সোহেল আহমেদ ওরফে সোহেল বালোচ-সহ মোট ন'জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছিল। অন্যদিকে, বলদেব নগর পুলিশ স্টেশনে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ধৃত এক অভিযুক্ত ভাট্টির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত বলে প্রমাণ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। NIA জানিয়েছে, এই তিনটি সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে জড়িত সমস্ত যোগসূত্র খুঁজে বের করতে তাদের তদন্ত জারি থাকবে।