
Nurse Kills Parents: হায় রে সন্তান! যারা পৃথিবীর আলো দেখিয়েছিলেন, তাদেরই জীবনের আলো কেড়ে নিল নিজের সন্তান। তেলাঙ্গানার (Telangana) ভিকারাবাদ জেলার ইয়াচারাম গ্রামে ২৩ বছরের এক নার্সের নৃশংস ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রেমিককে বিয়ে করতে বাধা দেওয়ায় পরিকল্পনা করে নিজের বাবা ও মাকে খুন করেছে নিক্কা সুরেখা নামের ওই নার্স। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুরেখা অ্যানেসথেশিয়ার ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত ডোজ ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করে বাবা ও মা-কে হত্যা করে। নিহতদের নাম দশরথ (৫৮) ও লক্ষ্মী (৫২)। তারা ওই গ্রামেরই বাসিন্দা ছিলেন। সুরেখা একটি নামকরা বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিল।
ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে পরিচয়ের পর বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সুরেখা ও তার প্রেমিকের। প্রায় দু'বছরের সম্পর্কের পর তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু মেয়ের প্রেমিকের চরিত্র ভালো নয় বলে অভিযোগ তুলে বাবা-মা এই বিয়েতে আপত্তি জানান। এই বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারের মধ্যে অশান্তি চলছিল। পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী সুরেখা প্রথমে মায়ের পায়ের ব্যথার অজুহাতে এবং পরে বাবার হাঁটুর ব্যথার কথা বলে ইনজেকশন দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। সে দাবি করে, ইনজেকশন দেওয়া খুবই জরুরি। বাবা প্রথমে আপত্তি করলেও, মেয়ের জোরাজুরিতে শেষ পর্যন্ত রাজি হন। এরপরই বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে প্রথমে মাকে এবং পরে বাবাকে হত্যা করে সুরেখা।
ঘটনার পর সুরেখা পুলিশ ও প্রতিবেশীদের জানায়, আর্থিক অনটন ও ঋণের চাপে তার বাবা-মা আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশকে সে কাঁদতে কাঁদতে এই কথা বলার সময় জ্ঞানও হারিয়ে ফেলে। তবে তদন্ত যত এগোয়, ততই সুরেখার বক্তব্যে অসংগতি ধরা পড়ে। ঘর থেকে সিরিঞ্জ উদ্ধার হওয়ার পর তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়ে। জেরার মুখে শেষ পর্যন্ত সুরেখা নিজের অপরাধ স্বীকার করে। পুলিশকে সে জানিয়েছে, ধরা না পড়লে কয়েক মাসের মধ্যেই প্রেমিককে বিয়ে করার পরিকল্পনা ছিল তার।