Uniform Civil Code: মুসলিমদের টার্গেট করতেই আনা হচ্ছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, তোপ ওয়েইসির

Published : Sep 16, 2026, 09:53 AM IST
Uniform Civil Code: মুসলিমদের টার্গেট করতেই আনা হচ্ছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, তোপ ওয়েইসির

সংক্ষিপ্ত

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি নিয়ে কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তাঁর দাবি, সমতা আনার জন্য নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মুসলিমকে টার্গেট করতেই এই আইন আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অ-হিন্দুদের ওপর হিন্দু আইন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) নিয়ে কেন্দ্র ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে (আরএসএস) তীব্র আক্রমণ করলেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় সংবিধানের ২৫, ২৬ এবং ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদে থাকা মৌলিক অধিকারগুলো কেড়ে নিতেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। সংবিধানে এই অনুচ্ছেদগুলো ধর্ম পালনের স্বাধীনতা, ধর্মীয় বিষয় পরিচালনার অধিকার এবং সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষার কথা বলে।

মুসলিমদের বিরুদ্ধেই এই ইউসিসি: ওয়েইসি

মঙ্গলবার ভোপালে একটি সাংবাদিক বৈঠকে ওয়েইসি দাবি করেন, দেশে সমতা আনার জন্য ইউসিসি তৈরি হয়নি। বরং ভারতের ১৮ কোটি মুসলিমকে টার্গেট করতেই এই আইন আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, "যখন এটা আনা হচ্ছিল, তখন মুখ্যমন্ত্রী কী স্লোগান দিচ্ছিলেন? 'এই দেশ কে চালাবে?' আর তারাই এখন ইউসিসি আনছে। এটা প্রমাণিত যে সমতার জন্য ইউসিসি আনা হয়নি, ভারতের ১৮ কোটি মুসলিমকে নিশানা করতেই এটা আনা হয়েছে।"

বিজেপি, আরএসএস এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, "ইউসিসি আনার পেছনে আরএসএস, বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটাই উদ্দেশ্য। আর তা হলো, সংবিধানের ২৫, ২৬ এবং ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদে থাকা ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারগুলো পুরোপুরি শেষ করে দেওয়া।"

এআইএমআইএম প্রধানের আরও দাবি, অ-হিন্দুদের ওপর হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, হিন্দু বিবাহ আইন এবং হিন্দু দত্তক ও রক্ষণাবেক্ষণ আইনের মতো বিষয়গুলো চাপিয়ে দেওয়াই ইউসিসি-র লক্ষ্য। বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ এবং সম্পত্তি ভাগের মতো ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের নিজস্ব ধর্মীয় পরিচয় মুছে ফেলতেই এই চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, "এর তৃতীয় উদ্দেশ্য হলো অ-হিন্দুদের ওপর হিন্দু আইনগুলো চাপিয়ে দেওয়া। বিয়ে, ডিভোর্স বা সম্পত্তি ভাগের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব যে ধর্মীয় পরিচয় রয়েছে, সেটা মুছে ফেলাই আসল লক্ষ্য। যাতে ভারতে ২৫, ২৬ এবং ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদগুলো শুধু নামেই থেকে যায়।"

ইউসিসি চালুর পক্ষে সওয়াল বিজেপির

অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান মহসিন রাজা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যখন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি ছিলেন, তখন থেকেই ইউসিসি দলের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি। তিনি বলেন, "অমিত শাহ যখন সর্বভারতীয় সভাপতি ছিলেন, তখন আমাদের ইস্তেহারেও ইউসিসি ছিল। জনস্বার্থে যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া দরকার এবং মানুষের কল্যাণে যে আইনগুলো তৈরি করা উচিত, আমরা এখনও পর্যন্ত সেগুলো পূরণ করেছি। যেসব রাজ্যে বিজেপি সরকার রয়েছে, সেখানে দ্রুত এই আইন কার্যকর করা হবে।"

মহসিন রাজা জোর দিয়ে বলেন, জনকল্যাণ ও জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখেই শাসক দল আইন প্রণয়নে বদ্ধপরিকর। তাঁর কথায়, "বিজেপি যে সংকল্প নেয়, তা পুরোপুরি পূরণ করার জন্যই কাজ করে। ইউসিসি নিয়ে অনেক দিন ধরেই আলোচনা চলছে এবং সারা দেশের মানুষের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। দেশের মানুষ যদি রাজি থাকে, তবে দেশ যা চায় বিজেপি সেটাই করে। কারণ বিজেপি ভারতীয়দের জন্যই কাজ করে।"

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি কী?

উল্লেখ্য, ধর্ম নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিকের জন্য বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে একই ব্যক্তিগত আইন চালু করাই হলো ইউসিসি-র মূল লক্ষ্য। এই বিষয়টি বিজেপির অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। বৃহত্তর আইনি ও সামাজিক সংস্কারের অংশ হিসেবেই এই আইন চালুর পক্ষে সওয়াল করে আসছে দল। ইতিমধ্যেই তিনটি রাজ্যে এই বিল পেশ ও পাস হয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুজরাটে, ২০২৬ সালের মার্চে উত্তরাখণ্ডে এবং ২০২৬ সালের মে মাসে আসামে এই বিল পাস হয়।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

বিনা পারিশ্রমিকে অতিরিক্ত কাজের নিরিখে প্রথম ভারত! বিনা পয়সায় ওভারটাইমে নাজেহাল কর্মীরা
Masood Azhar: মাথার দাম ৭০ লক্ষ! পাকিস্তানের ঘোষণাকে 'গিমিক' বলে উড়িয়ে দিল ভারত