
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বাড়বাড়ন্তের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিই দায়ী। AIMIM প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি সরাসরি এই ভাষাতেই তোপ দাগলেন। তিনি বলেন, মুসলিম ভোট নিয়ে তারপর ছুড়ে ফেলে দেওয়াই তৃণমূল নেত্রীর নীতি।
অনেকেই তাঁকে বিজেপির 'বি-টিম' বলে কটাক্ষ করেন। সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ওয়েইসি মনে করিয়ে দেন, একটা সময় মমতা নিজেই বিজেপির জোটসঙ্গী ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যও হয়েছিলেন। এমনকি গুজরাট দাঙ্গার সময়েও মমতা বিজেপির শিবিরেই ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ওয়েইসির অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস মুসলিম সম্প্রদায়কে শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক হিসেবেই দেখে। তিনি বলেন, "মমতা মুসলিমদের গরু-ছাগলের মতো ব্যবহার করেন। ভোটের জন্য কাছে টেনে তারপর ছুড়ে ফেলে দেন।" মুখ্যমন্ত্রী কেন মুসলিমদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (special economic zone) তৈরি করছেন না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। ওয়েইসি আরও বলেন, "আগে যখন ৮ লক্ষ মুসলিমকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, তখন যাঁরা চুপ ছিলেন, তাঁরা এখন আমার দল নির্বাচনে লড়লে ভয় পাচ্ছেন কেন?"
সম্প্রতি তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে জোট ভেঙে দিয়েছেন ওয়েইসি। একটি স্টিং অপারেশনের ভিডিও সামনে আসার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই ভিডিওতে হুমায়ুনকে বিজেপির বড় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ। ওয়েইসি কটাক্ষ করে বলেন, হুমায়ুন তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং এখন তিনি তৃণমূলের সঙ্গেই আছেন। যদিও হুমায়ুন কবীরের দাবি, ভিডিওটি নকল। আপাতত বাংলায় কারও সঙ্গে জোট না করে একাই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওয়েইসি।
আসন্ন নির্বাচনে মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং আসানসোলের মোট ৯টি আসনে প্রার্থী দেবে AIMIM। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলটি ৬টি আসনে লড়েছিল, কিন্তু ৫ শতাংশের কম ভোট পেয়েছিল। 'ভোট কাটুয়া'র অভিযোগ উঠলেও, ওয়েইসি যে পিছু হটছেন না, তা স্পষ্ট।