
দিল্লি: কথায় বলে, ভালোবাসা কোনও কাঁটাতার মানে না। সেই কথাটাই যেন সত্যি প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন ২২ বছরের জিশান মীর। স্ন্যাপচ্যাটে আলাপ হওয়া প্রেমিকাকে দেখতে আর পৈতৃক সম্পত্তির দাবি জানাতে সোজা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে এসেছিলেন তিনি। তবে শেষরক্ষা হল না। ভারতীয় সেনা তাঁকে আটক করে এবং শনিবার, ৪ জুলাই দুপুর ১২:২৪ নাগাদ উরি সেক্টরের কামান আমন সেতুতে পাকিস্তানি সেনার হাতে তুলে দেয়।
ঘটনাটা হল, জিশান মীর নামে PoK-র ওই যুবক বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক চাপে ভুগছিলেন। পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তিনি হিমশিম খাচ্ছিলেন। এই সময়েই স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে তাঁর আলাপ হয় কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার তুলওয়ারি গ্রামের বাসিন্দা ইরম বানো নামে এক তরুণীর সঙ্গে। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম হতে বেশি সময় লাগেনি।
কথাবার্তার মধ্যেই তাঁরা জানতে পারেন, জিশানের পূর্বপুরুষরা একসময় ইরমের গ্রামেই থাকতেন। জিশান তাঁর সমস্যার কথা জানালে, ইরমই তাঁকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে আসার পরামর্শ দেন।
দু'জনে মিলে এক অদ্ভুত পরিকল্পনা করেন। ঠিক হয়, জিশান সীমান্ত পেরিয়ে সরাসরি ভারতীয় সেনার কাছে আত্মসমর্পণ করবেন। বেআইনিভাবে দেশে ঢোকার জন্য যেটুকু আইনি সাজা হবে, তা খেটে নেবেন। তারপর জেল থেকে বেরিয়ে গ্রামে থাকা পৈতৃক সম্পত্তির উপর আইনি দাবি জানিয়ে পাকাপাকিভাবে ভারতেই থেকে যাবেন।
কিন্তু প্ল্যানমাফিক কিছুই হয়নি। গত ৩১ মে সীমান্ত পার করার সময়ই ভারতীয় সেনা জিশানকে ধরে ফেলে। জেরার সময় তিনি সব সত্যি কথা খুলে বলেন। তাঁর কথা যাচাই করার জন্য ইরম বানোকেও ডেকে পাঠানো হয়। ইরম আধিকারিকদের কাছে অনুরোধ করেন যাতে জিশানকে ভারতে থাকতে দেওয়া হয়।
তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে। এর পিছনে কোনও গুপ্তচরবৃত্তি বা অন্য কোনও উদ্দেশ্য নেই, এটা নিশ্চিত হওয়ার পরেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত মানবিকতার খাতিরে জিশানকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় সেনা। চিনার কর্পসের তরফে জানানো হয়েছে, যতদিন জিশান ভারতে ছিলেন, তাঁর সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হয়েছে এবং তাঁর সবরকম খেয়াল রাখা হয়েছে।