
'বন্দে মাতরম'-কে অপমান করাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার লক্ষ্যে বুধবার সংসদে একটি বিল পাস হয়েছে। সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর হট্টগোলের মধ্যেই লোকসভায় এই বিলটি পাস হয়। 'প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬' (জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ সংশোধনী বিল)-টি এর আগের দিনই রাজ্যসভায় পাস হয়েছিল। নিম্নকক্ষে পাস হওয়ার ফলে প্রস্তাবিত এই সংশোধনীটি এখন আইন হয়ে ওঠার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। লোকসভায় বিরোধী সদস্যদের প্রতিবাদের মধ্যেই বিলটি পেশ করা হয় ও ধ্বনিভোটের মাধ্যমে পাস করানো হয়। বিরোধীরা 'নিট' (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশের পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনার দাবি জানাচ্ছিলেন। সদন যখন আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল, তখনও সেই হট্টগোল অব্যাহত ছিল।
সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব
এই আইনের মাধ্যমে 'প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট, ১৯৭১' (জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন)-কে সংশোধন করে তার আওতায় জাতীয় সঙ্গীত 'বন্দে মাতরম'-কে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই আইনে সংবিধান, জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় সঙ্গীতের মতো জাতীয় প্রতীকগুলোর প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আইনটি কার্যকর হলে, 'বন্দে মাতরম' গাওয়ার সময় অপমান করা, বাধা সৃষ্টি করা বা বিশৃঙ্খলা ঘটানোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের শাস্তি—অর্থাৎ সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডই—প্রযোজ্য হবে।
রাজ্যসভাতেও হয়েছিল তীব্র বিতর্ক
এর আগে ২৯ জুলাই রাজ্যসভায় বিলটি পাস হয়েছিল। সে সময় সরকারি ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল। আলোচনার সময় কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলের সদস্যরা সদন থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন। উচ্চকক্ষে আলোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, দেশের সম্মান ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করাই এই বিলের লক্ষ্য। তিনি 'বন্দে মাতরম'-কে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জাতীয় চেতনার প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন। বিভিন্ন দলের বেশ কয়েকজন সদস্য এই বিলের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। কেউ কেউ জাতীয় প্রতীকের প্রতি অসম্মান রোধে কঠোর বিধানের পক্ষে মত দেন, আবার অন্যরা এ বিষয়ে আরও ব্যাপক ঐকমত্য ও আলোচনার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর উপলক্ষে কেন্দ্রের উদ্যোগ
১৮৭৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এবং ১৮৮২ সালে তাঁর 'আনন্দমঠ' উপন্যাসে প্রথম প্রকাশিত 'বন্দে মাতরম'-এর ১৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের কেন্দ্রীয় উদ্যোগেরই একটি অংশ হল এই বিল। গত কয়েক মাসে কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন রাজ্যের কাছে সরকারি অনুষ্ঠানে এই জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন সংক্রান্ত নির্দেশিকাও জারি করেছে।