
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির নিয়মকানুন নিয়ে আলোচনার জন্য গুগল, মেটা, এক্স এবং স্ন্যাপচ্যাটের মতো সংস্থাগুলিকে তলব করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদীর একটি ভিডিও ফেসবুক থেকে ভুলবশত ডিলিট ও পরে ফিরিয়ে আনার ঘটনার পরই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।
আগামী ৩ আগস্ট এক জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছে যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। আলোচনার বিষয়— "সোশ্যাল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং তার নিয়ন্ত্রণ"। এই বৈঠকে নিজেদের বক্তব্য জানাতে ডাকা হয়েছে মিনিস্ট্রি অফ ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি (MeitY), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং গুগল, মেটা, এক্স ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শীর্ষ কর্তাদের।
এই বৈঠকের প্রেক্ষাপট বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ফেসবুক ভিডিও কিছুক্ষণের জন্য ডিলিট করে দিয়েছিল মেটা, যদিও পরে তা ফিরিয়ে আনা হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে ওই ভিডিওতে কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
এই ঘটনার পর মেটার এক মুখপাত্র বিবৃতিতে জানান, "ভিডিওটি ভুলবশত সরিয়ে ফেলা হয়েছিল এবং পরে তা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।" সংস্থাটি এর জন্য একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটিকে দায়ী করেছে।
NEET-UG 2026 পরীক্ষার বেনিয়ম নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) নেতৃত্বে ৩৬ দিন ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনের আবহে গত ২৩ জুলাই ওই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। এই প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জেন-জি (Gen Z) প্রজন্মের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।
ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রদের আশ্বাস দেন যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আইনি পরিকাঠামো আরও মজবুত করা হবে। এর জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং নতুন আইনের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির কথাও বলেন তিনি। এরপরই কেন্দ্র পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬ পেশ করে। এই বিলে দোষীদের জন্য ১০ বছর পর্যন্ত জেল, মোটা অঙ্কের জরিমানা এবং বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর গত ২৫ জুলাই ছাত্রছাত্রীরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়। পাশাপাশি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেওয়া, পুলিশের হেনস্থা বন্ধ করা এবং প্রশ্নফাঁস রুখতে আরও কড়া আইন আনার বিষয়ে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) এবং সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছায় কেন্দ্র।
এদিকে, এই সংসদীয় বৈঠকের ঠিক একদিন আগেই দিল্লি পুলিশ একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে। যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভ এবং ২০ জুলাইয়ের 'সংসদ চলো' মিছিলের সময় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য সহ পোস্ট ও ভিডিওগুলি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তাদের সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং টিম ক্রমাগত অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলির উপর নজর রাখছে এবং আপত্তিকর বিষয়বস্তু সরানোর জন্য নোটিশ পাঠাচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই ধরনের বেশ কিছু পোস্ট ও ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং বিক্ষোভ সংক্রান্ত অনলাইন কার্যকলাপের উপর নজরদারি এখনও চলছে।