
ত্রিপুরার তেলিয়ামুড়ায় দুর্গাপুজোর চাঁদার নামে জোরজুলুমের অভিযোগ উঠল। শুধু তাই নয়, কর্তব্যরত এক মহিলা পুলিশ আধিকারিককেও মারধর করা হয়েছে। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মানিকপুর এলাকার বাসিন্দা সঞ্জীব চাকমা নিজের গাড়িতে করে তেলিয়ামুড়া শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। শান্তিনগর এলাকায় একটি ক্যাফের কাছে স্থানীয় ক্লাবের কয়েকজন সদস্য তাঁর গাড়ি আটকায়। দুর্গাপুজোর চাঁদা হিসেবে জোর করে তাঁর কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা আদায় করে তারা। এরপর সঞ্জীবকে মারধর করারও চেষ্টা করে ওই যুবকরা। কোনওরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে তিনি সোজা তেলিয়ামুড়া থানায় গিয়ে পৌঁছান এবং একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরেই অভিযুক্তদের ধরতে ময়দানে নামে পুলিশ। তেলিয়ামুড়া থানার মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর সুমিত্রা দেববর্মার নেতৃত্বে পুলিশ ও টিএসআর (TSR) জওয়ানদের একটি দল ওই ক্লাবের উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত দেড়টা নাগাদ জাতীয় সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় অভিযোগকারী সঞ্জীব চাকমা অভিযুক্তদের চিনিয়ে দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের ধরতে গেলে তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। কর্তব্যরত টিএসআর জওয়ানদের সঙ্গেও তারা খারাপ ব্যবহার করে। অভিযোগ, দুজন মহিলা পুলিশ কর্মী এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা বাইক দিয়ে তাঁদের ধাক্কা মারে। এর ফলে বাইকের পিছনে বসে থাকা এক মহিলা আধিকারিক রাস্তায় ছিটকে পড়েন।
গ্রেফতার হওয়া তিনজনের নাম ধ্রুব সাহা, সুদীপ চক্রবর্তী এবং উত্তম দেব। এরা তিনজনই শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা। তেলিয়ামুড়া থানার ওসি জয়ন্ত কুমার দে জানিয়েছেন, পুলিশ এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) মামলা রুজু করেছে। জোর করে টাকা আদায়, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং মহিলা পুলিশকে মারধরের মতো একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। ওসি জয়ন্ত কুমার দে বলেন, "অভিযুক্তদের আটক করার পর থানায় ৫৬ নম্বর একটি সুয়োমোটো মামলা রুজু করা হয়েছে। জোর করে চাঁদা আদায়, সরকারি কাজে বাধা এবং মহিলা পুলিশকে হেনস্থার অভিযোগ আনা হয়েছে।"
গত ১ অক্টোবর গ্রেফতার হওয়া তিন অভিযুক্তকে খোয়াই আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাদের ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে (জেল হেফাজত) পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।