হাসপাতালে পেটের উপর সিলিং ফ্যান পড়ে রোগীর মৃত্যুর, গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের

Published : Jul 20, 2026, 09:17 AM IST
patient died hours after a ceiling fan allegedly fell on his bed in Delhi GTB Hospital emergency ward

সংক্ষিপ্ত

হাসপাতালে সিলিং ফ্যান পড়ে গিয়ে মৃত্যু হল এক রোগীর। ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। ৪২ বছরের এক রোগীর উপর সিলিং ফ্যান পড়ে যায়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবার তদন্তের দাবি জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন যে, ফ্যানটি খুলে রোগীর বেডের উপর পড়েছিল, যার ফলে তাঁর মৃত্যু হয়।

হাসপাতালে সিলিং ফ্যান পড়ে গিয়ে মৃত্যু হল এক রোগীর। ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। ৪২ বছর বয়সি এক রোগীর উপর সিলিং ফ্যান পড়ে যায়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবার তদন্তের দাবি জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ওয়ার্ডে থাকা অন্যরা অভিযোগ করেছেন যে, ফ্যানটি খুলে রোগীর বেডের উপর পড়েছিল, যার ফলে তাঁর মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাটি ঘটে এবং আগের দিন ভর্তি হওয়া মহম্মদ আকবর রবিবার রাত ১২টা ১৬ মিনিটে মারা যান। সূত্র জানায়, ঘটনার পর পূর্ত বিভাগ (পিডব্লিউডি) ফ্যানটি মেরামত করে। ঘটনায় একজন পুরুষ নার্সও আহত হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, আকবরের মৃত্যু কারণ হিসেবে আগে থেকে থাকা শারীরিক অসুস্থতা বা জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ-২৭-এ ঘটনাটি ঘটে, যেখানে আকবর চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সিলিং ফ্যানটি হঠাৎ খুলে সরাসরি তাঁর বেডের উপর পড়ে এবং তাঁর পেটে আঘাত করে। এরপর হাসপাতালের কর্মীরা তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সূত্র জানায়, ১৮ জুলাই ভর্তি হওয়া আকবর উচ্চ রক্তচাপ, মেনিনগোএনসেফালাইটিস ও অ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়া-সহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন। রবিবার সকালে তাঁর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছে রোগীর সুরক্ষায় গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

নার্স আহত হওয়ার বিষয়ে হাসপাতালের দেওয়া তথ্যের সঙ্গেও দ্বিমত পোষণ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাঁদের অভিযোগ, ওই নার্স বর্তমান ঘটনার সময় নয়, বরং কয়েক মাস আগে অন্য একটি ঘটনায় আহত হয়েছিলেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী মুহাম্মদ আসলাম কোরেশি অভিযোগ করেন, "আমি আমার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে ওয়ার্ডে গিয়েছিলাম, তখন দেখি সিলিং ফ্যানটি রোগীর উপর পড়ছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার একটি ভিডিও তুলি। রোগীটিকে দেখে ৫০ বছরের মতো মনে হচ্ছিল এবং তিনি মাত্র একদিন আগেই ভর্তি হয়েছিলেন। ঘটনার আগে তিনি সুস্থই ছিলেন, কিন্তু পরে মারা যান। চিকিৎসকরা বলছেন ফ্যানটি এক নার্সের উপর পড়েছিল, কিন্তু আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম এবং দেখেছি যে এটি রোগীর উপরেই পড়েছে।"

কুরেশি আরও অভিযোগ করেন, "রোগীর কাছে পৌঁছতে চিকিৎসকের দেরি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ছিল। রোগীদের জন্য নির্ধারিত ফ্যান ও এয়ার-কন্ডিশনারগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না, অথচ চিকিৎসকদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে রোগীদের জীবনের কোনও মূল্য নেই।"

রোগীদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন জানান, ওয়ার্ডের অনেক এয়ার-কন্ডিশনার অকেজো অথবা সেগুলোর যন্ত্রাংশ নিখোঁজ। ফলে ভ্যাপসা গরমে বাতাস চলাচলের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিলিং ফ্যান। সরকারি এই হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধার মান নিয়েও রোগীর স্বজনরা প্রশ্ন তুলেছেন। একজন পরিজন বলেন, "রোগীরা কি এ ধরনের চিকিৎসা পাচ্ছেন?" আরেকজন অভিযোগ করেন যে, তাঁর ভাইকে প্রথমে ভুল নিডল দেওয়া হয়েছিল, যা পরে হাসপাতালের কর্মীরা বদলে দেন।

এই মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের দাবি উঠেছে। পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা রক্ষণাবেক্ষণ ও রোগীর সুরক্ষার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে যে, আনুষ্ঠানিক রিপোর্টে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে এবং ডেথ সার্টিফিকেটে আকবরের আগে থেকেই বিদ্যমান শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Parliament March: ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযান, যন্তর মন্তরের বাইরে কড়া নিরাপত্তা
Today’s News in Bengali Live: হাসপাতালে পেটের উপর সিলিং ফ্যান পড়ে রোগীর মৃত্যুর, গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের