প্রধান বিচারপতিকে গালিগালাজ, এজলাসে কাগজ ছুড়ে চেঁচামেচি মামলাকারীর, চরম নাটক সুপ্রিম কোর্টে

Published : Jul 10, 2026, 05:35 PM IST
Supreme court

সংক্ষিপ্ত

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একজন ব্যক্তি—যিনি নিজেই নিজের মামলা লড়ছিলেন (petitioner-in-person)—আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে মৌখিকভাবে গালিগালাজ করেন এবং এজলাসে কাগজপত্র ছুড়ে ফেলেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেঞ্চের অংশ ছিলেন না।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একজন ব্যক্তি—যিনি নিজেই নিজের মামলা লড়ছিলেন (petitioner-in-person)—আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে মৌখিকভাবে গালিগালাজ করেন এবং এজলাসে কাগজপত্র ছুড়ে ফেলেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেঞ্চের অংশ ছিলেন না। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে নিরাপত্তা কর্মীরা তাঁকে আদালত কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে যান। ঘটনাটি ঘটে সকাল ১১টার দিকে বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথন এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চে।

প্রবল প্রতাপ নামের ওই আবেদনকারী বেঞ্চের সামনে হাজির হয়ে নিজেকে "সার্বভৌম" (sovereign) হিসেবে পরিচয় দেন। বিচারকদের "বিচারিক সেবক" (judicial servants) সম্বোধন করে তিনি বলেন, "মিঃ বিচারিক সেবক, আমি আপনাদের নির্দেশ দিচ্ছি যেন লখনউয়ের এএসপি (ASP)-র বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করার আদেশ দেওয়া হয়। কারণ তিনি সাইবার অপরাধের একটি সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন।" বিস্মিত বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথন অবিশ্বাসভরে তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, "আপনি আমাকে আদেশ দিচ্ছেন? আপনি আমাদের আদেশ দিচ্ছেন?" আদালতের প্রশ্নের জবাবে অভিযোগকারী বললেন, "আমার পক্ষ থেকে এটুকুই। সবকিছুই নথিবদ্ধ রয়েছে।"

এরপরই ওই আবেদনকারী ভারতের প্রধান বিচারপতিকে গালিগালাজ করতে শুরু করেন এবং কাগজপত্র ছুড়ে মেরে শুনানিতে ব্যাঘাত ঘটান। আদালতের নিরাপত্তা কর্মীরা অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করেন এবং তাঁকে আদালত কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে যান। এরপর তাঁকে কিছু সময়ের জন্য আদালত চত্বরের ভেতরেই ডিএসপি (DSP)-র অফিসে আটকে রাখা হয়।

সুপ্রিম কোর্ট কোনও ব্যবস্থা নেয়নি

বিশৃঙ্খলা সত্ত্বেও, বেঞ্চ ওই আবেদনকারীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা বা অন্য কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আদেশ ঘোষণার সময় বিচারপতি বিশ্বনাথন বলেন, "আমরা তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছি না। মামলার গুণাগুণ বা বিষয়বস্তুর কথা যদি বলি, তবে আমরা নথিপত্র পর্যালোচনা করেছি। আমরা সংশ্লিষ্ট আদেশে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনও উপযুক্ত কারণ খুঁজে পাইনি। তাই স্পেশাল লিভ পিটিশন (Special Leave Petition) খারিজ করা হল।"

আদালতে বিচারাধীন মামলা

আবেদনকারী এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। ওই আদেশে লখনউয়ের স্পেশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (কাস্টমস)-এর একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা তাঁর রিট পিটিশন খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল। ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করার পরিবর্তে তাঁর আবেদনটিকে যেন একটি 'ব্যক্তিগত অভিযোগ' (private complaint) হিসেবে গণ্য করা হয়। এলাহাবাদ হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করে যে, ট্রায়াল কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আবেদনকারীর কাছে আইনি প্রতিকারের কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে; তাই আদালত তাঁকে উপযুক্ত ফোরামে যাওয়ার অনুমতি দেয়। হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনও কারণ না পাওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট 'স্পেশাল লিভ পিটিশন'টি খারিজ করে দেয় এবং এর মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি ঘটে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Indian Railways: মোবাইলে ট্রেনের টিকিট বুকিংয়ে নতুন কড়াকড়ি, এই ভুল করলেই জরিমানা হতে পারে
Historic Visit: ৪০ বছর পর নিউজিল্যান্ডে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, মোদীর সফরকে ঘিরে উত্তেজনা