শুক্রবার অকল্যান্ডে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। দীর্ঘ চার দশক পর ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফরে গেলেন। এই সফরকে 'ঐতিহাসিক' বলে উল্লেখ করেছেন মোদী।
অকল্যান্ডে পা রাখার পরেই নিজের নিউজিল্যান্ড সফরকে 'ঐতিহাসিক' বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে তিনি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য ধন্যবাদ দেন। মোদী আরও লেখেন, দীর্ঘ চার দশক পর ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রী এই দেশে সফরে এলেন। তিনি লেখেন, "কিছুক্ষণ আগেই অকল্যান্ডে পৌঁছলাম। বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী লাক্সনকে ধন্যবাদ। এই সফর ঐতিহাসিক, কারণ চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডে এলেন।"
নিউজিল্যান্ডে মোদী
নিজের পোস্টের সঙ্গে সফরের কিছু ছবিও শেয়ার করেন মোদী। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং অকল্যান্ডে কমিউনিটি ভাষণ নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, "প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের সঙ্গে ভারত-নিউজিল্যান্ড বন্ধুত্বের সব দিক নিয়ে আলোচনার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। আগামীকাল অকল্যান্ডে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানেও ভাষণ দেব।"
৪০ বছর পরে নিউজিল্যান্ডে গেলেন কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী
শুক্রবার অকল্যান্ডে বিমান থেকে নামার পরেই প্রধানমন্ত্রী মোদীকে স্বাগত জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। দুই নেতা একে অপরকে উষ্ণ আলিঙ্গন করেন। লাক্সনের আমন্ত্রণেই মোদীর এই সফর। দীর্ঘ ৪০ বছর পর এটিই নিউজিল্যান্ডে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফর।
মোদীর কর্মসূচি
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অকল্যান্ডে দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসবেন। গত দু'বছরে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি, বিশেষ করে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কতটা উন্নতি হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে দেখবেন তাঁরা।
বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, অকল্যান্ডে থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী মোদী সেখানকার বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও কথা বলবেন। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে মজবুত গণসম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে তিনি প্রবাসী ভারতীয়দের এক বড় সমাবেশে ভাষণও দেবেন।
এই বছরের এপ্রিলে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement) সই হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ ক্রিস্টোফার লাক্সন যখন ভারত সফরে এসেছিলেন, তখন দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে নয়াদিল্লিতে বৈঠক হয়েছিল।
অকল্যান্ডে আসার আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করেছেন। সেখানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের সঙ্গে তৃতীয় অস্ট্রেলিয়া-ভারত বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন।
মেলবোর্নে আয়োজিত এই বৈঠক দুই দেশের ছয় বছরের 'কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ'-এর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি করেছে।
বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ এবং ক্লিন এনার্জি বা পরিবেশবান্ধব শক্তিতে রূপান্তর নিয়ে বেশ কিছু যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।


