
বিশ্ব জল দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জলের প্রতিটি ফোঁটা সংরক্ষণের ডাক দিয়েছেন। তাঁর মতে, জলই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে এবং এই গ্রহের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে। রবিবার এক্স-এ (আগের টুইটার) একটি পোস্টে মোদী লেখেন, 'জলই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে এবং আমাদের গ্রহের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে। বিশ্ব জল দিবসে আসুন, আমরা সবাই মিলে জলের প্রতিটি ফোঁটা বাঁচানোর শপথ নিই এবং দায়িত্বের সঙ্গে তা ব্যবহার করি। যারা জল সংরক্ষণের জন্য কাজ করছেন, সচেতনতা বাড়াচ্ছেন, তাদের প্রশংসা করারও দিন আজ।'
অন্যদিকে, জলশক্তি মন্ত্রকও শনিবার জানিয়েছে যে বিশ্ব জল দিবস আমাদের ശുദ്ധ জলের গুরুত্ব এবং স্থিতিশীল জল ব্যবস্থাপনার জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দেয়। এই বছরের বিশ্বব্যাপী থিম হল 'ওয়াটার অ্যান্ড জেন্ডার'। এই উপলক্ষে, জলশক্তি মন্ত্রক ২৩ মার্চ নতুন দিল্লির ডঃ আম্বেদকর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে একটি সম্মেলনের আয়োজন করছে। এর থিম রাখা হয়েছে 'ইন্ডাস্ট্রি ফর ওয়াটার'।
এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাটিল এবং সরকারি ও শিল্পক্ষেত্রের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা। এই উদ্যোগটি 'সরকারের সকল বিভাগ' এবং 'সমাজের সকল স্তর'-কে একসঙ্গে নিয়ে ভারতের জল সুরক্ষা মজবুত করার একটি প্রয়াস।
জলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকেও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জনসচেতনতা বাড়ানো, বৃষ্টির জল ধরে রাখা ও পুনর্ব্যবহারের মতো ভালো অভ্যাসগুলো তুলে ধরা এবং জলের সঠিক ব্যবহার নিয়ে শিল্প ও পুরসভাগুলোর সঙ্গে কাজ করা।
এই সম্মেলনটি জল ব্যবস্থাপনার জন্য একটি জাতীয় মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। এখানে নীতিনির্ধারক, শিল্পপতি, শিক্ষাবিদ, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং তরুণ উদ্ভাবকরা একসঙ্গে বসে প্রযুক্তি-ভিত্তিক সমাধানের পথ খুঁজবেন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে শিল্প সংস্থাগুলো শুধু জলের ব্যবহারকারী নয়, বরং জল ব্যবস্থাপনার একজন দায়িত্বশীল অংশীদার হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই অনুষ্ঠানে ৭০০-র বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন। 'জলশক্তি হ্যাকাথন'-এর বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে। এছাড়া, জাতীয় জলশুমারির রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে, যা ডেটা-ভিত্তিক জল ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরবে। সম্মেলনের শেষে শিল্প সংস্থাগুলো একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করবে, যেখানে তারা জল সংরক্ষণে তাদের দায়বদ্ধতার কথা জানাবে। এই সম্মেলনের মূল মন্ত্র হল 'ভাবনা, উদ্ভাবন এবং পদক্ষেপ', যার লক্ষ্য হল একটি জল-সুরক্ষিত ভারত গড়ে তোলা।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সাল থেকে প্রতি বছর ২২ মার্চ রাষ্ট্রসংঘের উদ্যোগে বিশ্ব জল দিবস পালিত হয়। এর মূল লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে সকলের জন্য জল এবং স্যানিটেশন নিশ্চিত করা, যা রাষ্ট্রসংঘের স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা SDG-6 এর অংশ। (ANI)