
মকর সংক্রান্তির দিনই নতুন অফিসে বসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর নতুন অফিস প্রায় প্রস্তুত এবং প্রধানমন্ত্রী শীঘ্রই নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী এই সপ্তাহেই সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত নতুন 'সেবা তীর্থ' কমপ্লেক্সে চলে যেতে পারেন। ১৪ জানুয়ারি 'মকর সংক্রান্তি' উপলক্ষে এই স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কমপ্লেক্সটি প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও), ক্যাবিনেট সচিবালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয়কে (এনএসসিএস) স্থান দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যেখানে এই তিনটি সংস্থার প্রত্যেকটির জন্য একটি করে আলাদা ভবন থাকবে।
পিএমও-কে স্থান দেওয়া নতুন ভবনটির নাম 'সেবা তীর্থ-১'। নামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই ভবনের ডিজাইন করা হয়েছে। সমস্ত ক্ষেত্রেই আধুনিকতার ছোঁয়া রয়েছে। পিএমও-র এই স্থানান্তর একটি যুগের অবসান ঘটাবে, কারণ ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে এটি সাউথ ব্লকে অবস্থিত ছিল।
'সেবা তীর্থ ২' ভবনটি ইতিমধ্যেই ক্যাবিনেট সচিবালয় ব্যবহার করছে, যারা গত বছরের সেপ্টেম্বরে সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছিল, এবং 'সেবা তীর্থ-৩'-এ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার কার্যালয় থাকবে।
একবার খালি হয়ে গেলে, সাউথ এবং নর্থ ব্লক দুটিকে 'যুগে যুগে ভারত সংগ্রহালয়' নামে একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হবে। জাদুঘরটির সাজসজ্জার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার জন্য ফ্রান্সের মিউজিয়াম ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে ২০২৪ সালে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
সম্পূর্ণ সেবা তীর্থ চত্বরটি (যা এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ নামেও পরিচিত) লারসেন অ্যান্ড টুব্রো দ্বারা ১,১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে। এটি ২,২৬,২০৩ বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি নতুন সরকারি বাসভবনও কাছাকাছি নির্মাণ করা হচ্ছে। যার নাম আপাতত "এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ পার্ট ২" রাখা হয়েছে। এই স্থানান্তরটি ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁর সরকার এর আগে নয়াদিল্লির আইকনিক রাজপথের নাম পরিবর্তন করে কর্তব্য পথ করেছিল।
কেন্দ্রীয় সরকারের অফিসগুলিতে আধুনিকীকরণ এবং প্রশাসন ও শাসনে দক্ষতা বাড়ানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্তমানে দিল্লির বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে থাকা মন্ত্রকগুলিকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসার জন্য নতুন কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট (সিসিএস) ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এই ধরনের একটি ভবন কর্তব্য ভবন গত বছরের অগাস্টে উদ্বোধন করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই এখানে একাধিক মন্ত্রকের অফিস রয়েছে।