
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার 'মন কি বাত' অনুষ্ঠানে ২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা ফের তুলে ধরেন। নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) পেরিয়ে জঙ্গি ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। মোদী এদিন স্পষ্ট করে দেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত সবসময় কড়া পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি, দেশে চলা জনগণনা নিয়েও কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, এটা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব এবং প্রত্যেক নাগরিকের এতে অংশ নেওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের কড়া জবাব দিয়ে ভারত নিজের শক্তি প্রমাণ করেছে। তাঁর কথায়, "আর একদিন পরেই ভারতের একটা বড় ঐতিহাসিক সাফল্যের ১০ বছর পূর্ণ হতে চলেছে—সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। দশ বছর আগে, ২০১৬ সালের ২৮-২৯ সেপ্টেম্বর পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoJK) জঙ্গি ঘাঁটিতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছিল ভারতীয় সেনা। আমাদের বীর জওয়ানরা যেভাবে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের খতম করেছিল, তা দেখে গোটা বিশ্ব অবাক হয়ে গিয়েছিল।"
তিনি আরও বলেন, "সন্ত্রাস দমনে ভারতের নীতি ঠিক কেমন, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক গোটা বিশ্বকে তার একটা নতুন উদাহরণ দেখিয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে জঙ্গি হামলার জেরে ভারতকে যে কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, এটা ছিল তারই একটা কড়া জবাব।"
পাকিস্তান মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের জবাব দিতে বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক এবং 'অপারেশন সিন্দুর'-এর কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "গত এক দশকে বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক থেকে শুরু করে 'অপারেশন সিন্দুর'—ভারত বারবার একটা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। জঙ্গিরা যদি ভারতের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস দেখায়, তবে তাদের কড়া জবাব দেওয়া হবে।"
উরি জঙ্গি হামলার জবাব দিতেই ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানো হয়েছিল। নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে জঙ্গিদের লঞ্চ প্যাড থাকার পাকা খবর পেয়েই এই অভিযান চালায় ভারতীয় সেনা। ভারতে ঢোকার ছক কষছিল যে জঙ্গিরা, তাদের নিশানা করেই এই নিখুঁত হামলা চালানো হয়।
এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ রুখতে তারা আগেভাগেই কড়া পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। যারা সন্ত্রাসবাদীদের মদত দেয়, তাদের যে এর চরম মূল্য চোকাতে হবে, সেই বার্তাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় ভারতের এই পদক্ষেপ বুঝিয়ে দেয় যে, তারা আর চুপ করে বসে থাকবে না, বরং কড়া হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে।