
নতুন মায়েদের যাত অর্থ কষ্ট ও পুষ্টির অভাব যাতে না হয় তাই এবার সদ্য মায়েদের টাকা দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। কীভাবে মিলবে এই টাকা?
গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার চালু করেছে প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা (PMMVY)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে মহিলারা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তা পান।
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল গর্ভাবস্থায় সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি কমান। কত টাকা পাওয়া যাবে এই স্কিমে?
এই প্রকল্পে প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে মোট ৫,০০০ টাকা দেওয়া হয়। সাধারণত দুই কিস্তিতে এই অর্থ প্রদান করা হয়—
প্রথম কিস্তি: গর্ভাবস্থা নথিভুক্তকরণ ও নির্দিষ্ট সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর ৩,০০০ টাকা দ্বিতীয় কিস্তি: সন্তানের জন্ম নিবন্ধন ও প্রাথমিক টিকাকরণ সম্পন্নের পর ২,০০০ টাকা এছাড়া দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে যদি কন্যা সন্তান জন্মায়, তাহলে অতিরিক্ত ৬,০০০ টাকা এককালীন সহায়তা দেওয়া হয়। ফলে মোট সুবিধা ১১,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে (প্রথম ও দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী)।
কারা এই সুবিধা পাবেন? এই প্রকল্পে আবেদন করতে হলে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে— আবেদনকারীকে ভারতীয় নাগরিক হতে হবে বয়স কমপক্ষে ১৯ বছর হতে হবে গর্ভাবস্থা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে আধার নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকাকরণ সম্পন্ন করতে হবে সরকারি বা আধা-সরকারি স্থায়ী কর্মচারী এবং কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির মহিলারা এই সুবিধার বাইরে থাকতে পারেন।
কীভাবে আবেদন করবেন? আবেদন করা যায় অনলাইন ও অফলাইন—দুইভাবেই। অনলাইন পদ্ধতি: সরকারি পোর্টালে গিয়ে মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করে আবেদন সম্পূর্ণ করা যায়।
অফলাইন পদ্ধতি: নিকটবর্তী আঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করে ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়া যায়। সেখানকার কর্মীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা করে থাকেন। কোন কোন নথি লাগবে? আধার কার্ড ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ মাতৃ ও শিশু সুরক্ষা কার্ড (MCP Card) সন্তানের জন্ম সনদ।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প? গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের পরিবারের মহিলাদের জন্য এই আর্থিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভাবস্থায় অনেক সময় পুষ্টির অভাব ও চিকিৎসার খরচ বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেই আর্থিক চাপ কিছুটা লাঘব হয় এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতি সচেতনতা বাড়ে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, সমস্ত অর্থ সরাসরি ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) পদ্ধতিতে উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়, ফলে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।