
বুধবার ওড়িশার গঞ্জাম জেলার গোপালপুরে আর্মি এয়ার ডিফেন্স কলেজ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সেখানে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় (CMO) থেকে জানানো হয়েছে, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং রাষ্ট্রপতির হাতে একটি স্মারক তুলে দেন।
এই প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছনোর পর রাষ্ট্রপতি মুর্মু এবং মুখ্যমন্ত্রী মাঝিকে স্বাগত জানান বরিষ্ঠ সামরিক আধিকারিকরা। সফরের সময় রাষ্ট্রপতি ও মুখ্যমন্ত্রী আর্মি এয়ার ডিফেন্স কলেজের বরিষ্ঠ আধিকারিক এবং কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।
তাঁরা দুজনেই সশস্ত্র বাহিনীর নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, পেশাদার প্রশিক্ষণের মান এবং দেশকে সুরক্ষিত রাখার জন্য নিঃস্বার্থ সেবার প্রশংসা করেন। এই আলোচনার মাধ্যমে বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়, যা বাহিনীর অভিযানগত প্রস্তুতি এবং প্রতিরক্ষা কর্মীদের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
রাষ্ট্রপতি দেশের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি বজায় রাখার জন্য কর্মরত সেনা ও আধিকারিকদের অবদানের স্বীকৃতি দেন। প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মীদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির এই সাক্ষাৎ ছিল তাঁর কর্মসূচিরই একটি অংশ। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, কৌশলগত প্রস্তুতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রচেষ্টাকে সম্মান জানানো হয়।
এদিকে, মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ওড়িশার রাজ্যপাল হরি বাবু কাম্ভমপতি এবং মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির সঙ্গে ভুবনেশ্বর রেলওয়ে স্টেশন থেকে একটি বিশেষ ট্রেনে বেরহামপুরের উদ্দেশে রওনা হন।
এই যাত্রা একটি বিরল এবং ঐতিহাসিক ঘটনা, কারণ দ্রৌপদী মুর্মুই প্রথম কর্মরত রাষ্ট্রপতি যিনি ট্রেনে করে বেরহামপুর রেলওয়ে স্টেশনে গেলেন।
কমিশনারেট অফ পুলিশ, গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (GRP) এবং রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF) এই যাত্রার জন্য ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল। ভুবনেশ্বর স্টেশন চত্বরের ভিতরে এবং চারপাশে একটি বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়। রাষ্ট্রপতির বিশেষ ট্রেনের জন্য ১ এবং ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম পুরোপুরি খালি করে দেওয়া হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতির তিন দিনের ওড়িশা সফর আজ শেষ হচ্ছে। এরপর তিনি রাজধানী দিল্লিতে ফিরে যাবেন। তাঁর এই সফর শুরু হয়েছিল ৩ আগস্ট কটকে জগদ্গুরু কৃপালু বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধনের মাধ্যমে।