Droupadi Murmu West Bengal Visit Protocol Controversy: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পশ্চিমবঙ্গ সফর নিয়ে দোষারোপ পাল্টা দাবির মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন রাষ্ট্রতি দ্রৌপদী মুর্মুর অনুষ্ঠানের সময় ত্রুটির অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছেন। রবিবার বিকেল ৫টার মধ্যে রিপোর্ট পাঠাতে হবে।

Droupadi Murmu West Bengal Visit Protocol Controversy: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পশ্চিমবঙ্গ সফর নিয়ে দোষারোপ পাল্টা দাবির মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন রাষ্ট্রতি দ্রৌপদী মুর্মুর অনুষ্ঠানের সময় ত্রুটির অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছেন। রবিবার বিকেল ৫টার মধ্যে রিপোর্ট পাঠাতে হবে। শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনের স্থান পরিবর্তনের কারণ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার তালিকাও রিপোর্টে উল্লেখ করতে হবে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে। কেন্দ্রের তরফে, রাষ্ট্রপতির সফরের সময় কয়েকটি ত্রুটির বিষয় বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে রাজ্যের কাছ থেকে।

সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব চারটি বিষয় তুলে ধরেছেন। ১) রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত এবং বিদায় জানাতে কেন মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব এবং পুলিশ ডিজি উপস্থিত ছিলেন না? ২) রাষ্ট্রপতির জন্য তৈরি শৌচাগারে কোনও জল ছিল না ৩) প্রশাসন যে রাস্তা দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে গিয়েছিল তা আবর্জনায় ভরা ছিল ৪) দার্জিলিং জেলাশাসক, শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক দায়ী। তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

রাষ্ট্রপতি মুর্মুর রাজ্য সফর নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি মুখোমুখি সংঘাত নেমেছে। বিজেপি অভিযোগ করেছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করেছে, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার প্রধান বিরোধী দল বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশের সর্বোচ্চ পদের অপব্যবহার করার অভিযোগ করেছেন।

আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে রাষ্ট্রপতির উত্তরবঙ্গে আসার কথা ছিল শুক্রবার বিকেলে। এবছর শিলিগুড়িতে এই অনুষ্ঠান হচ্ছে। উদ্যোক্তারা প্রথমে জানিয়েছিলেন এই কনফারেন্স হবে বিধাননগরে। কিন্তু তারপরেও চারবার সভাস্থল বদল করা হয়। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার কারণে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে সভা করার অনুমতি মেলে প্রশাসনের তরফে। তিনি শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। প্রোটোকল অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য প্রশাসনের কোনও প্রতিনিধি অর্থাৎ কোনও মন্ত্রীকে থাকতে হয়। এক্ষেত্রে সেই প্রোটোকলও ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ। গোঁসাইপুরের সম্মেলনে কম লোকজনের উপস্থিতি দেখে অবাক হন রাষ্ট্রপতি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে সে কথা চেপে রাখেননি রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, 'এখানে বসে আমি অনেক সাঁওতালি মানুষকে বাইরে ঘুরে বেড়াতে দেখেছি। এত চেয়ার ফাঁকা কেন? মনে হচ্ছে যেন কেউ তাঁদের এখানে আসতে বাধা দিচ্ছে। যখন আমি মাঠ এবং ব্যবস্থা দেখি, তখন আমার মনে হয় সাঁওতালি সম্প্রদায়ের এত বড় আন্তর্জাতিক সমাবেশে সকলের খোলাখুলি অংশগ্রহণ করা উচিত। কারা সাঁওতালদের আটকাতে চাইছে? কারা চায় না সাঁওতালরা একজোট হোক? শিক্ষিত হোক?"

অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি সেখান থেকে সরাসরি বিধাননগরে চলে যান, যেখানে প্রথমে সভা হওয়ার কথা ছিল। সেখানে গিয়ে গোটা এলাকা ঘুরে দেখেন। সেখান থেকেই বলেন, আমি তো এই এলাকাতেই সভা করতে চেয়েছিলাম। পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। কিন্তু কেন রাজ্য সরকার আমাকে সভা করতে দিল না? এখানে (বিধাননগরে) অনুষ্ঠান হলে ভাল হত। এখানে অনেক জায়গা, অনেক মানুষ আসতে পারতেন। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন কেন জানি না, এখানে সভার অনুমতি দেয়নি। এমন জায়গায় আজকের অনুষ্ঠান হচ্ছে, এখানে মানুষের আসা কঠিন। রাজ্য সরকার মনে হয় আদিবাসীদের ভাল চায় না, তাই এখানে তাঁদের আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ভালবাসি। মমতা বোধহয় রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি, কোনও মন্ত্রীও আসেননি। যাই হোক, এটা ব্যাপার নয় কোনও। আপনার সকলে ভাল থাকবেন।"