
তিন বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে এক ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধকে মৃত্যুদণ্ড দিল পুনের একটি বিশেষ আদালত। সোমবার এই রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত এই অপরাধকে 'জঘন্য' বলে মন্তব্য করেছে।
দোষী ব্যক্তির নাম ভীমরাও কাম্বলে। পুনে জেলার নাসারাপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১ মে। ঘটনার পর ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে এই মামলার শুনানি হয়। রায় ঘোষণার সময় বিশেষ আদালত জানায়, অপরাধের ধরন অত্যন্ত জঘন্য। তাই এই মামলার গুরুত্ব এবং অপরাধের উদ্দেশ্য বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত। এর আগে ২৫ জুন পুনে আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত জানায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সরকারি পক্ষ সঠিকভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সমস্ত প্রাসঙ্গিক ধারায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করার পর, মামলাটি সাজা ঘোষণার পর্যায়ে চলে যায়। সরকারি ও অভিযোগকারীর পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত সোমবার চূড়ান্ত রায়ের দিন ধার্য করেছিল। স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর, আইনজীবী অজয় মিসার জানিয়েছেন, মামলার শুরু থেকেই সরকারি পক্ষ অপরাধের ভয়াবহতার উপর জোর দিয়েছিল।
অজয় মিসার বলেন, "আজ মামলার চূড়ান্ত রায় ছিল। আদালত তার রায় দিয়েছে। এই রায়ে বলা হয়েছে যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সরকারি পক্ষ প্রমাণ করেছে। আদালত অভিযুক্তকে আইপিসি-র সমস্ত ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছে।"
সর্বোচ্চ সাজার দাবি জানাতে গিয়ে সরকারি পক্ষ সুপ্রিম কোর্টের ১২টি যুগান্তকারী রায়ের উদাহরণ দেয়। ওই রায়গুলিতে নাবালকদের বিরুদ্ধে হওয়া জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল।
আইনজীবী মিসার এই প্রসঙ্গে বলেন, "সরকারি পক্ষ আদালতে সুপ্রিম কোর্টের ১২টি যুগান্তকারী রায়ের কথা উল্লেখ করে, যেখানে এই ধরনের অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আদালত আমাদের যুক্তিতে সহমত পোষণ করে।" তিনি আরও যোগ করেন, "এরপর অভিযোগকারীর পক্ষ তাদের বক্তব্য পেশ করে। সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত ২৯ জুন, সোমবার, সাজা ঘোষণার দিন ধার্য করেছিল।"
২০২৬ সালের ১ মে, গ্রীষ্মের ছুটিতে দিদার বাড়িতে বেড়াতে আসা শিশুটিকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি গোয়ালঘরে নিয়ে যায়। সেখানে সে শিশুটিকে ধর্ষণ করে, পাথর দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তারপরে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে শিশুটির নিথরদেহ গোবরের স্তূপের নিচে লুকিয়ে রাখে।
সিসিটিভি ফুটেজ এবং ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (FSL) ফরেনসিক প্রমাণাদি ব্যবহার করে অভিযুক্তকে অপরাধের যুক্ত থাকার প্রমাণ পেশ করে পুনে গ্রামীণ । পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী ১৬ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে।