
শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের মুখ্য প্রশাসক অরবিন্দ কে পাধি সোমবার জানিয়েছেন যে পুরীর বিখ্যাত স্নান পূর্ণিমা এবং রথযাত্রার প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সামনের স্নান পূর্ণিমা আর রথযাত্রার পুজোর নিয়মকানুন আর সময়সূচি চূড়ান্ত করতে একটা জরুরি বৈঠক হয়েছে। আমরা এই দুটো বড় উৎসবের নির্ঘণ্ট ফাইনাল করেছি... উৎসব যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য সমস্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে... প্রস্তুতির কাজের জন্য আপাতত রত্ন ভাণ্ডারের জিনিসপত্রের হিসেব করার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে, যা পরে আবার শুরু হবে।"
মন্দির প্রশাসন ভক্তদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে উৎসবের প্রতিটি দিক, যেমন পুজোর সময়সূচি, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য সমস্ত ব্যবস্থা নিখুঁতভাবে পরিকল্পনা করছে। পুরীর এই বার্ষিক উৎসবের বিশালতা ও গুরুত্ব মাথায় রেখেই সব আয়োজন করা হচ্ছে।
জগন্নাথ রথযাত্রা হল ওড়িশার পুরী শহরের একটি বার্ষিক হিন্দু উৎসব। এই উৎসবে ভগবান জগন্নাথ, ভগবান বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রাকে তাঁদের মন্দির থেকে বিশাল, সুসজ্জিত রথে করে গুন্ডিচা মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়, যা তাঁদের মাসির বাড়ি হিসেবে পরিচিত। এই আধ্যাত্মিক যাত্রাকে রথের উৎসব বা শ্রী গুন্ডিচা যাত্রাও বলা হয়। এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উৎসব, যা ভগবান জগন্নাথের তাঁর জন্মস্থানে যাওয়ার পৌরাণিক কাহিনিকে কেন্দ্র করে পালিত হয়।
রথযাত্রার সময়, হাজার হাজার ভক্ত তিন দেবতার পবিত্র রথ—ভগবান জগন্নাথ, ভগবান বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রার রথ—টেনে গুন্ডিচা মন্দিরে নিয়ে যান, যা জগন্নাথ মন্দির থেকে অল্প দূরেই অবস্থিত। তিন দেবতা গুন্ডিচা মন্দিরে এক সপ্তাহ কাটানোর পর আবার জগন্নাথ মন্দিরে ফিরে আসেন। এই উৎসবের শেষ পর্ব হল 'বহুদা যাত্রা' বা "ফিরতি যাত্রা"। ভগবান জগন্নাথের 'নন্দীঘোষ' রথ, ভগবান বলভদ্রের 'তালধ্বজ' রথ এবং দেবী সুভদ্রার 'দর্পদলন' রথের ফিরে আসা দেখার জন্য বহু মানুষ ভিড় জমান।
পুরীতে বহু ভক্ত পবিত্র 'অধরাপানা' অনুষ্ঠান দেখার জন্য জড়ো হন। এই অনুষ্ঠানটিকে রথযাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ বলে মনে করা হয়। এতে দুধ, চিনি এবং অন্যান্য উপাদান দিয়ে তৈরি একটি পবিত্র পানীয় দেবতাদের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয়। এই পানীয় বিশেষ নকশার মাটির পাত্রে দেওয়া হয়, যার আকৃতি অনেকটা ভগবানের মুখের মতো। এই নিবেদন রথের উপরেই করা হয় এবং এটি শুধুমাত্র দেবতাদের জন্যই নির্দিষ্ট। অনুষ্ঠানের পর পাত্রগুলি রথের উপরেই ভেঙে ফেলা হয়।
শ্রী জগন্নাথ মন্দির ভারতের অন্যতম শ্রদ্ধেয় হিন্দু মন্দির, যা ভগবান বিষ্ণুর একটি রূপ ভগবান জগন্নাথকে উৎসর্গীকৃত। এটি সারা দেশের ভক্তদের জন্য একটি প্রধান তীর্থস্থান। মন্দিরটি দ্বাদশ শতকে রাজা অনন্তবর্মণ চোড়গঙ্গ দেব তৈরি করেছিলেন এবং এটি কলিঙ্গ স্থাপত্যের একটি চমৎকার উদাহরণ।