Puri Jagannath Temple: পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সম্পত্তি শুনলে চমকে যাবেন! ব্যাঙ্কে ১৯১২ কোটি, এখানেই শেষ নয়

Published : Sep 03, 2026, 02:23 PM IST
puri jagannath temple pti (1)

সংক্ষিপ্ত

Puri Jagannath Temple: পুরীর জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে ভক্তদের আবেগ ও বিশ্বাসের শেষ নেই। এবার সামনে এল এই প্রাচীন মন্দিরের বিপুল আর্থিক সম্পদের একটি চিত্র। মন্দিরের আর্থিক সঞ্চয়ের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৯১২ কোটি টাকা।

Puri Jagannath Temple: পুরীর জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে ভক্তদের আবেগ ও বিশ্বাসের শেষ নেই। এবার সামনে এল এই প্রাচীন মন্দিরের বিপুল আর্থিক সম্পদের একটি চিত্র। মন্দির প্রশাসনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ফিক্সড ডিপোজিট মিলিয়ে জগন্নাথ মন্দিরের আর্থিক সঞ্চয়ের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৯১২ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে মন্দিরের নামে থাকা ৬০ হাজারেরও বেশি একর জমি।

ফিক্সড ডিপোজিটে কত

শ্রী জগন্নাথ টেম্পল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা SJTA-র দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, ৩১ অগস্ট পর্যন্ত মন্দিরের ফিক্সড ডিপোজিটের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৮১১.১০ কোটি টাকা। এই অর্থের একটি বড় অংশ অর্থাৎ প্রায় ১,৩১১.১০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে। এর পাশাপাশি রয়েছে সরকারের দেওয়া ৫০০ কোটি টাকার কর্পাস ফান্ড। মন্দিরের নিয়মিত আর্থিক লেনদেন ও প্রয়োজনীয় খরচের জন্য বিভিন্ন ধরনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও অর্থ রাখা রয়েছে। সেভিংস, কারেন্ট এবং ফ্লেক্সি অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে সেই অঙ্ক প্রায় ১০০.৭১ কোটি টাকা। ফলে সব মিলিয়ে ব্যাঙ্কে থাকা অর্থের পরিমাণ প্রায় ১,৯১২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

কত জমি রয়েছে জগন্নাথ মন্দিরের?

আর্থিক সম্পদের পাশাপাশি মন্দিরের জমির পরিমাণও যথেষ্ট বড়। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে মন্দিরের নামে রয়েছে ৬০ হাজার ৮২১ একর জমি। এর সিংহভাগই ওড়িশায়। রাজ্যের ২৪টি জেলায় মন্দিরের জমির পরিমাণ প্রায় ৬০,৪২৬ একর। ওড়িশার বাইরে আরও কয়েকটি রাজ্যে রয়েছে মন্দিরের সম্পত্তি। মোট প্রায় ৩৯৫ একর জমি রয়েছে ছয়টি অন্য রাজ্যে। সেই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যও রয়েছে।

কোথা থেকে আসে মন্দিরের আয়?

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আয়ের একাধিক উৎস রয়েছে। ভক্তদের দেওয়া দান ও প্রণামী তার অন্যতম প্রধান উৎস। এর পাশাপাশি মন্দিরের মালিকানাধীন জমি, খনি ও পাথরের খাদান থেকে আয় হয়। ফিক্সড ডিপোজিটের সুদ এবং বিভিন্ন সরকারি অনুদানও মন্দিরের আর্থিক ব্যবস্থার অংশ। মন্দিরের দৈনন্দিন পরিচালনার খরচ মূল তহবিল থেকেই মেটানো হয়। ভবিষ্যতের প্রয়োজন ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অর্থের একটি অংশ নির্দিষ্ট কর্পাস এবং ফাউন্ডেশন ফান্ডে রাখা হয়।

অনলাইনে কত টাকা দান?

প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়িয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। রথযাত্রার আগে চালু করা হয় ‘সমর্পণ’ নামে একটি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা অনলাইনে অনুদান দিতে পারেন। অগস্টের শেষ পর্যন্ত এই প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৫৬.৭১ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, মন্দিরের হুন্ডিতে প্রতিদিন কত টাকা জমা পড়ছে, সেই হিসেবও প্রকাশ্যে আনার ব্যবস্থা রয়েছে। নোটিস বোর্ড এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সেই তথ্য জানানো হয়।

রত্নভাণ্ডারেও চলছে বিশেষ অডিট

জগন্নাথ মন্দিরের সম্পত্তির হিসেব প্রকাশের সময়েই বিশেষ নজরে রয়েছে রত্নভাণ্ডার। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভক্তদের দেওয়া মূল্যবান অলঙ্কার, সোনা, হিরে ও অন্যান্য রত্ন এখানে সংরক্ষিত রয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ৪৮ বছর পর রত্নভাণ্ডারের সম্পূর্ণ সামগ্রী সরেজমিনে যাচাই করে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। মন্দির প্রশাসনের বক্তব্য, আর্থিক সম্পত্তির তথ্য প্রকাশের মূল লক্ষ্য হল স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং জগন্নাথদেবের সম্পত্তি সুরক্ষিত রাখা। ফলে পুরীর এই ঐতিহাসিক মন্দিরের বিপুল সম্পদের হিসেব সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Srinagar Protest: বেকারত্ব-দুর্নীতির অভিযোগে পথে BJP, পাল্টা বিক্ষোভে NC, উত্তপ্ত শ্রীনগর
বুড়ো MiG-21 দিয়ে পাকিস্তানি F-16 ধ্বংস করেছিলেন, বায়ুসেনা থেকে অবসর নিলেন অভিনন্দন বর্তমান