AAP সাংসদ রাঘব চাড্ডার BJP-তে যোগদানের জল্পনায় দলত্যাগ বিরোধী আইনের সঙ্কট আরও গভীর হয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ থাকলেও তাঁর পদচ্যুতি সম্ভব, কারণ আইন অনুযায়ী পুরো দলের সংযুক্তিকরণ জরুরি।সকলের নজর স্পিকারের সিদ্ধান্তের দিকে।
ভারতীয় রাজনীতিতে আবার সাংবিধানিক জটিলতা। আম আদমি পার্টি (AAP) ছেড়ে রাঘব চাড্ডার BJP-তে যোগদানের জল্পনা রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছে। এর সঙ্গেই দলত্যাগ বিরোধী আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। প্রথম নজরে এটি সংখ্যার খেলা মনে হলেও, আসল ছবিটা তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।
26
ভারতীয় সংবিধানের দশম তফসিল (Tenth Schedule) অনুযায়ী, সাংসদ পদ বাঁচাতে শুধু দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থনই যথেষ্ট নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, মূল রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক সংযুক্তিকরণ। অর্থাৎ, যদি শুধু একদল সাংসদ BJP-তে যোগ দেওয়ার দাবি করেন, কিন্তু AAP দল হিসেবে সংযুক্ত না হয়, তবে এটিকে 'দলত্যাগ' হিসেবেই দেখা হবে, 'সংযুক্তিকরণ' নয়। এই আইনি প্যাঁচেই রাঘব চাড্ডা সমস্যায় পড়তে পারেন।
36
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে একনাথ শিন্ডে এবং অজিত পাওয়ারের মতো নেতারা দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়কের সমর্থন দেখিয়ে নিজেদের পদ বাঁচিয়েছিলেন। সেই সময় স্পিকার তাঁদের গোষ্ঠীকেই 'আসল দল' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন, ফলে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হয়নি। কিন্তু রাঘব চাড্ডার বিষয়টি সেই পথে এগোবে বলে মনে হচ্ছে না। এখানে শুধু সংখ্যার খেলা নয়, আইনি শর্তগুলোই আসল হয়ে উঠতে পারে।
সূত্রের খবর, রাঘব চাড্ডার AAP ছাড়ার সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া নয়। দলের ভেতরে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ, উপ-নেতার পদ থেকে সরানো এবং নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্য—এই সবকিছুই এই সিদ্ধান্তের জন্ম দিয়েছে। চাড্ডা তাঁর পদক্ষেপকে 'ইতিবাচক রাজনীতি'-র দিকে যাত্রা বললেও, AAP নেতারা একে সুবিধাবাদী পদক্ষেপ বলছেন। তাঁদের অভিযোগ, চাড্ডা সংসদে দলের অবস্থানের সমর্থন করেননি এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন।
56
যদি AAP সরকারিভাবে BJP-র সঙ্গে সংযুক্ত না হয়, তাহলে শুধুমাত্র সাংসদদের একটি গোষ্ঠীর দলত্যাগ দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় আসতে পারে। সেক্ষেত্রে স্পিকারের কাছে পদচ্যুতির প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষমতা থাকবে। এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি তথ্য, নথি এবং রাজনৈতিক স্বীকৃতির উপর নির্ভর করবে।
66
রাঘব চাড্ডার এই পদক্ষেপ শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, এটি AAP এবং BJP-র মধ্যে একটি নতুন সংঘাতেরও জন্ম দিতে পারে। যদি তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়, তাহলে এই বার্তা যাবে যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাও সব পরিস্থিতিতে রক্ষাকবচ নয়। এখন সকলের নজর একটাই দিকে—চাড্ডা কি শিন্ডে-পাওয়ারের মতো বেঁচে যাবেন, নাকি দলত্যাগ আইনের ধার এবার আরও বেশি ধারালো প্রমাণিত হবে?