
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী শুক্রবার মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন। ২০২৯ সালের লোকসভা ভোট থেকে মহিলা সংরক্ষণ চালু করার জন্য যে ডিলিমিটেশন বিল আনা হয়েছে, তার সমালোচনা করে রাহুল বলেন, "এর সঙ্গে মহিলাদের ক্ষমতায়নের কোনও সম্পর্কই নেই।" তাঁর মতে, এটা আসলে "ভারতের নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দেওয়ার একটা চেষ্টা।"
লোকসভায় এই তিনটি বিল নিয়ে বিতর্কে অংশ নিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, এটা "জাতভিত্তিক জনগণনাকে পাশ কাটানোর একটা চেষ্টা"। তিনি সরাসরি বলেন, "প্রথম সত্যিটা হল, এটা কোনও মহিলা বিল নয়। মহিলাদের ক্ষমতায়নের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্কই নেই। এটা আসলে ভারতের নির্বাচনী মানচিত্র বদলানোর চেষ্টা। সত্যি বলতে, এটা একটা লজ্জাজনক কাজ।"
রাহুল আরও বলেন, "এখানে যা করার চেষ্টা হচ্ছে, তা হল জাতভিত্তিক জনগণনাকে এড়িয়ে যাওয়া। ওরা আমার ওবিসি ভাই-বোনদের ক্ষমতা এবং প্রতিনিধিত্ব দিতে চায় না... আসল কথা হল, সংসদ বা বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার জন্য জাতভিত্তিক জনগণনা ব্যবহার করা হবে কি না। আপনারা যা করতে চাইছেন, তা হল প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে জাতভিত্তিক জনগণনার সম্পর্কটাই মুছে দেওয়া। যাতে এই বিষয়টাকে আরও ১০ বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়া যায়।"
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সাফ জানিয়ে দেন, বিরোধী শিবির এই তিনটি বিল পাশ হতে দেবে না। তিনি সরকারকে অবিলম্বে 'নারী শক্তি আইন' কার্যকর করার দাবি জানান। তিনি বলেন, "মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়া খুব সহজ কাজ, আর প্রত্যেক বিরোধী সদস্যই এটা পাশ করিয়ে দেবে... এখনই সেই পুরনো বিলটা ফিরিয়ে আনুন, আমরা এই মুহূর্তে সেটা পাশ করতে সাহায্য করব। ওটাই ছিল আসল মহিলা বিল, এটা অন্য কিছু। এটার আসল সত্যিটা মানুষের সামনে বলা দরকার।"
রাহুল বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য "ভারতের গোটা রাজনৈতিক মানচিত্রটাই নতুন করে সাজানোর" চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, "দেশের রাজনীতিতে যা ঘটছে, তাতে আপনারা ভয় পেয়েছেন। আপনাদের শক্তি কমছে, তাই ভয় পাচ্ছেন। আপনারা ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছেন। জম্মু ও কাশ্মীর এবং আসামে আপনারা এটা করেছেন, আর এখন ভাবছেন গোটা ভারতের জন্যই এটা করতে পারবেন।"
রাহুল আরও যোগ করেন, "আমি বুঝিয়ে বলছি আপনারা কী করছেন। আপনারা দক্ষিণ ভারত, উত্তর-পূর্বের রাজ্য এবং ছোট রাজ্যগুলোকে বলছেন যে, বিজেপিকে ক্ষমতায় রাখতে আমরা তোমাদের প্রতিনিধিত্ব কেড়ে নেব। এটা একটা দেশবিরোধী কাজ ছাড়া আর কিছুই নয়। কোনও পরিস্থিতিতেই আমরা আপনাদের এটা করতে দেব না।"
উল্লেখ্য, লোকসভায় বুধবার সংবিধান (একশো একত্রিশতম সংশোধনী) বিল, ২০২৬, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ এবং ডিলিমিটেশন বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আলোচনা গতকাল বিকেলে শুরু হয়ে গভীর রাত ১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত চলে।