
Raigad News: মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) রায়গড় জেলায় পিকনিকে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি হল পুণের (Pune) একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের। পুণের আলান্দি (Alandi) থেকে রায়গড়ের দিভেআগর সৈকতে সমুদ্রে স্নান করতে নেমে ডুবে মৃত্যু হল আট পড়ুয়ার। আটজনের দেহই উদ্ধার করা হয়েছে। প্রত্যেককেই মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আলান্দির ‘উইনার্স অ্যাকাডেমি ফর ইলেভেনথ অ্যান্ড টুয়েলভথ’-এর ৪৮ জনের একটি দল বেড়াতে গিয়েছিল দিঘি সাগরীতে (Dighi Sagari)। এই দলে মধ্যে ছিলেন ২৫ জন ছাত্র, ১৭ জন ছাত্রী এবং ছয় জন শিক্ষক। সেখান থেকেই দিভেআগরে ঘুরতে গিয়েছিলেন তাঁরা। সমুদ্রে স্নান করতে নামার পর আচমকাই আটজন পড়ুয়া জলের স্রোতে ভেসে যায়।
প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, সমুদ্রের স্রোত এবং জলের গভীরতা সঠিকভাবে বুঝতে পারেনি পড়ুয়ারা। এই দুর্ঘটনার পরেই শুরু হয় উদ্ধারকার্য। স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মীরা তল্লাশিতে নেমে পড়েন। দিভেআগরের ভাউ মারুতি সালুঙ্খে মহাকালী ওয়াটার স্পোর্টসের মালিক ভাউ মারুতি সালুঙ্খে এবং তাঁর দলও সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জলে নেমে আট পড়ুয়ার দেহ উদ্ধারের জন্য লাগাতার চেষ্টা চালান তাঁরা। শেষপর্যন্ত আটজনের দেহই উদ্ধার করা সম্ভব হয়। মৃত পড়ুয়াদের পরিচয়—তন্ময় দত্তাত্রেয় ভাহিলে, সুমিত ভারত আহিরে, প্রণব রামদাস বানসোডে, কৈবল্য সতীশ ওয়াসানকর, রাজবীর যুবরাজ ভাহিলে, যশ কিরণ ওয়ানখেড়ে, সোহম তুকারাম ভান্ডভালকর এবং কৌস্তুভ সন্দীপ দৌন্ড।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দিভেআগরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছন দিঘি সাগরী বোরলি পঞ্চায়তন থানার অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ ইন্সপেক্টর সন্তোষ আওয়াতে। পুলিশকর্মীরা স্থানীয় গ্রামবাসীদের সাহায্যে উদ্ধার অভিযান চালান। উদ্ধার করা দেহগুলি পরবর্তী চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বোরলি পঞ্চায়তনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। কীভাবে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।