Lonavala Travel: মুম্বই থেকে উইকেন্ডে ঘুরতে যাওয়ার বেস্ট জায়গা লোনাভালা। কিন্তু এই সুন্দর পাহাড়ি শহরের বুকেই লুকিয়ে আছে বেশ কিছু ভূতুড়ে বাংলো আর ঘাট। রাত হলেই নাকি সেখানে জেগে ওঠে প্রেতাত্মা।
Lonavala Tourism: মুম্বইবাসীর প্রিয় উইকেন্ড ডেস্টিনেশন লোনাভালা। সবুজ পাহাড়, ঝরনা, ভুট্টা আর চায়ের কাপ। দিনের বেলায় যা স্বপ্নের মতো সুন্দর। কিন্তু সূর্য ডোবার পরেই লোনাভালার আসল রূপ বেরিয়ে আসে। স্থানীয়রা বলেন, "লোনাভালার প্রতিটি পুরনো বাংলোর দেওয়ালে দেওয়ালে মৃত্যুর গল্প লেখা আছে।"
লোনাভালার ৩টি সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গা
১. "শেরগড়" বাংলো - আত্মহত্যার অভিশাপ লোনাভালা স্টেশন থেকে ২ কিমি দূরে জঙ্গলের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে ১০ বছরের পুরনো এই ব্রিটিশ আমলের বাংলো। কথিত আছে, ১৯৪০ সালে এখানকার এক ব্রিটিশ অফিসার তার স্ত্রীকে খুন করে নিজে আত্মহত্যা করেন। তারপর থেকেই বাংলোটা পরিত্যক্ত। আজও রাতের বেলা ওখান থেকে নাকি মহিলার কান্না আর পুরুষের চিৎকার শোনা যায়। জানালা দিয়ে নাকি আলো জ্বলতে-নিভতে দেখা যায়। পুলিশও রাতের বেলা ওই রাস্তা এড়িয়ে চলে।
২. ডিউক'স নোজ - "শয়তানের নাক" লোনাভালার সবচেয়ে ফেমাস ট্রেকিং স্পট। দিনে অসম্ভব সুন্দর। কিন্তু রাতের ডিউক'স নোজ হল মৃত্যুর ফাঁদ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই পাহাড়ের নিচে একটা গুহায় নাকি এক তান্ত্রিকের অভিশপ্ত আত্মা বন্দি আছে। অনেক ট্রেকার রাতের বেলা এখানে তাঁবু খাটিয়ে সকালে নিখোঁজ হয়ে গেছে। রাত ১২টার পর নাকি পাহাড়ের গা বেয়ে পায়ের আওয়াজ নেমে আসে। আর কুয়াশার মধ্যে দেখা যায় কালো ছায়ামূর্তি।
৩. ভুশি ড্যাম এবং লোনাভালা ঘাট - জলের নিচের কান্না বর্ষায় ভুশি ড্যামে ভিড় উপচে পড়ে। কিন্তু প্রতি বছর এখানে ১০-১৫ জন জলে ডুবে মারা যায়। স্থানীয় মাঝিরা বলেন, রাতের বেলা ড্যামের জলে নাকি সাদা শাড়ি পরা মহিলাদের দেখা যায়। তারা হাতছানি দিয়ে ডাকে। আর লোনাভালা ঘাটের রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ ব্রেক ফেল হওয়া, গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়া নাকি খুব কমন ঘটনা।
কেন লোনাভালা এত ভূতুড়ে?
১. ব্রিটিশদের কবরস্থান: লোনাভালায় ব্রিটিশ আমলের অনেক পুরনো কবরস্থান আছে। যেগুলো এখন জঙ্গলে ঢাকা পড়ে গেছে।
২. দুর্ঘটনাপ্রবণ ঘাট: মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের লোনাভালা ঘাটে প্রতি মাসে অ্যাক্সিডেন্ট হয়। মৃতদের অতৃপ্ত আত্মা নাকি এখানেই ঘোরে।
৩. পরিত্যক্ত বাংলো: ব্রিটিশ আর পার্সিদের তৈরি শ'খানেক পুরনো বাংলো এখন ভূতের আস্তানা। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো ভেঙে পড়ছে।
দিনে পর্যটন, রাতে আতঙ্ক: দিনের লোনাভালা আর রাতের লোনাভালা দুটো আলাদা জগৎ। দিনে আপনি চিক্কি কিনবেন, ঝরনায় ভিজবেন। আর রাত ৮টার পর হোটেলের মালিকরাই আপনাকে বলে দেবে - "সাহেব, রাতের বেলা বাইরে বেরোবেন না।"
আপনি কি সাহস করবেন?
মুম্বই থেকে মাত্র ৮৩ কিমি দূরে এই "সুন্দর মৃত্যুপুরী"। উইকেন্ডে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করলে দিনেই যান। রাতের ট্রেন বা গাড়ি এড়িয়ে চলুন। কারণ লোনাভালার হাওয়ায় শুধু বৃষ্টির গন্ধ নেই। মিশে আছে পুরনো আর্তনাদ আর অভিশাপের গন্ধ। লোনাভালা আপনাকে টানবেই। কিন্তু মনে রাখবেন, এই পাহাড়ের প্রতিটা বাঁকে লুকিয়ে আছে একটা না বলা গল্প। একটা মৃত্যুর গল্প।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


