
জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার নওশেরা এলাকার একেবারে সীমান্তবর্তী গ্রাম সারিয়া। মঙ্গলবার সেখানেই সরকারি প্রকল্প নিয়ে একটি সচেতনতা শিবির আয়োজন করা হয়। 'ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ' উদ্যোগের অধীনে এই শিবিরে কেন্দ্রীয় এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প সম্পর্কে গ্রামবাসীদের জানানো হয় এবং ঘটনাস্থলেই নাম নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়।
সারিয়ার একটি স্থানীয় স্কুলে এই শিবিরটি হয়। বৃষ্টির মধ্যেও গ্রামের মানুষজন ভিড় জমান। শ্রম দপ্তর এবং অন্যান্য সংস্থার আধিকারিকরা অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।
রাজৌরির লেবার অফিসার নীরজ কুমার সংবাদ সংস্থা ANI-কে জানান, এই উদ্যোগটি 'ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ' কর্মসূচির অধীনে চিহ্নিত গ্রামগুলিতে পৌঁছনোর একটি বড় প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, "শ্রম দপ্তরের তরফে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে 'ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ' উদ্যোগের অধীনে থাকা গ্রামগুলিতে সচেতনতা শিবির করতে হবে। সারিয়া সেই গ্রামগুলির মধ্যে একটি।"
শিবিরের উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি আরও বলেন, "আজ আমরা এখানে শ্রম দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে মানুষকে জানাতে এসেছি। যদিও বৃষ্টির কারণে কিছুটা সমস্যা হয়েছে, তবুও মানুষের অংশগ্রহণ দেখে আমি খুশি। আমরা প্রত্যেককে প্রকল্পগুলি এবং এর সুবিধা সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করছি। এখানেই নাম নথিভুক্ত করার কাজও চলছে।"
নীরজ কুমার প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মানধন যোজনার উপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, "আমাদের দপ্তরে বেশ কয়েকটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প রয়েছে। তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ হল প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মানধন যোজনা। এই প্রকল্পে কর্মীদের সামান্য কিছু টাকা জমা রাখতে হয়। অসংগঠিত ক্ষেত্রের যেকোনো শ্রমিক—যেমন ইলেকট্রিশিয়ান, দর্জি, ছোট দোকানদার বা রাজমিস্ত্রি—যাদের বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, তারা এতে নাম লেখাতে পারেন।"
তিনি আরও বিশদে জানান, "১৮ বছর বয়সে একজন কর্মী মাসে মাত্র ৫৫ টাকা দিয়ে শুরু করতে পারেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাকার পরিমাণ কিছুটা বাড়ে, যা সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ৬০ বছর বয়সের পর ওই কর্মী এই প্রকল্পের অধীনে মাসে ৩,০০০ টাকা করে নিশ্চিত পেনশন পাবেন।"
এদিকে, গ্রামবাসীরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, এই শিবিরের ফলে সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে তথ্যের অভাব দূর হচ্ছে। স্থানীয় সমাজকর্মী অনিল চৌধুরী বলেন, "'ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ' উদ্যোগের অধীনে অনেক অফিসার গ্রামে এসে সচেতনতা বাড়াচ্ছেন। আজ শ্রম দপ্তরের অফিসাররা প্রকল্পগুলি সম্পর্কে জানাতে এসেছেন।"
তিনি আরও বলেন, "মানুষ উৎসাহের সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন, এই ধরনের সাড়া দেখে ভালো লাগছে। আগে আমরা এই প্রকল্পগুলি সম্পর্কে এতটা সচেতন ছিলাম না, কিন্তু এখন আরও বেশি মানুষ তথ্য পাচ্ছেন এবং সুবিধাগুলি বুঝতে পারছেন। এই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।"
সীমান্তবর্তী এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সুবিধা একেবারে শেষ স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, এই সচেতনতা শিবির তারই একটি অংশ।