
বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা চুলের জন্য উত্তরাখণ্ডের এক যুবতী গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছেন। তিনি তাঁর চুলকে বিস্ময়করভাবে ২৭১.৫০ সেন্টিমিটার (৮ ফুট ১০ ইঞ্চি) পর্যন্ত লম্বা করেছেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জীবিত নারীদের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা চুলের অধিকারী হিসেবে রেনু ধারিয়ালকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। গত এপ্রিলে হালদওয়ানিতে তাঁর রেকর্ড-গড়া চুলের দৈর্ঘ্য পরিমাপ ও যাচাই করা হয়।
ধারিয়ালের চুলের দৈর্ঘ্য ছিল ইতিহাসের দীর্ঘতম মানুষ রবার্ট ওয়াডলোর উচ্চতার (২৭২ সেন্টিমিটার) চেয়ে সামান্য কম। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্যমতে, ধারিয়াল ২০১৫ সাল থেকে একটানা চুল বড় করছিলেন এবং এই সময়ের মধ্যে তিনি চুল কাটেননি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে তিনি জানান, চুল বড় করার সিদ্ধান্তে ভারতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রভাব ছিল। কারণ ঐতিহাসিকভাবেই লম্বা চুলকে সৌন্দর্য ও সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চুল এতটাই লম্বা হয়ে গিয়েছিল যে তা তাঁর পেছনে মেঝেতে গড়াত। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, ধারিয়াল মেঝেতে বসে আছেন এবং তাঁর অসাধারণ লম্বা চুল তাঁকে ঘিরে রয়েছে। অন্য ছবিতে দেখা যায়, বিছানার কিনারা বেয়ে তাঁর চুল নীচে নেমে আসছে। অসাধারণ দৈর্ঘ্যের পাশাপাশি তাঁর চুল বেশ ঘন ও উজ্জ্বল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। চুল সামলানোর প্রয়োজনে ধারিয়াল সেগুলোকে একটি লম্বা ও সুনিপুণ বিনুনিতে বেঁধে রাখতেন।
Renu Dhariyal (India) has the longest hair in the world! 🩷
She has claimed the record for longest hair on a living person (female).
Her stunning raven tresses measure an unbelievable 271.50 cm (8 ft 10 in) long. pic.twitter.com/N8FeWdUGP0— Guinness World Records (@GWR) August 7, 2026
ধারিয়ালের এই অর্জনের ফলে ইউক্রেনীয় রেকর্ড-ধারী আলিয়া নাসিরোভার কাছ থেকে তিনি এই খেতাবটি নিজের দখলে নেন। এর আগে ২৫৭.৩৩ সেন্টিমিটার (৮ ফুট ৫.৩ ইঞ্চি) লম্বা চুল নিয়ে রেকর্ডটি নাসিরোভার দখলে ছিল। ধারিয়ালের চুলের দৈর্ঘ্য ২৭১.৫০ সেন্টিমিটার হওয়ায় তিনি আগের রেকর্ডটিকে ১৪ সেন্টিমিটারেরও বেশি ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছেন।
এই অর্জনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ ধারিয়াল কেবল চুল বড়োই করেননি, বরং বছরের পর বছর ধরে সেগুলোর যথাযথ যত্নও নিয়েছেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, এত লম্বা চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য প্রচুর পরিশ্রম ও সময়ের প্রয়োজন হয়। ধারিয়াল জানান, তাঁর চুলের যত্ন নিতে প্রচুর ধৈর্যের প্রয়োজন। চুল ধোয়া ও জট ছাড়াতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগে। বাণিজ্যিক রাসায়নিক পণ্যের উপর খুব বেশি নির্ভর না করে তিনি প্রাকৃতিক পদ্ধতি ব্যবহার করতেই বেশি পছন্দ করতেন। ধারিয়াল বাড়িতেই চুলের তেল ও শ্যাম্পু তৈরি করতেন এবং অনলাইনে চুলের যত্নের বিভিন্ন পদ্ধতি ও পরামর্শ শেয়ার করে নিতেন।
রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি, ধারিয়াল একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবার হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছিলেন। সেখানে তিনি অন্যান্য নারীদের সঙ্গে সৌন্দর্য ও চুলের যত্ন বিষয়ক নানা পরামর্শ শেয়ার করতেন। ধারিয়ালের অনন্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য তাঁকে অনলাইন ও অফলাইন—উভয় জগতেই কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছিল। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এর তথ্যমতে, ঘরের বাইরে বের হলে কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় উপস্থিত হলে তিনি প্রায়শই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন। তাঁর চুলের অবিশ্বাস্য দৈর্ঘ্য দেখে মানুষ অবাক হয়ে যেত। তবে ধারিয়ালের কাছে এই রেকর্ডটি কেবল একটি ব্যতিক্রমী শারীরিক অর্জনের চেয়েও বেশি কিছু ছিল।
তিনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে জানিয়েছেন যে, তাঁর এই অর্জন ভারত ও তাঁর স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সাহায্য করবে বলে তিনি আশা করেন। একই সঙ্গে, এটি মানুষকে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও স্বাভাবিক সৌন্দর্যের সঙ্গে অবিচলভাবে যুক্ত থাকতে উৎসাহিত করবে বলেও তিনি মনে করতেন। প্রায় নয় ফুট লম্বা চুলের অধিকারী রেণু ধারিয়াল নিঃসন্দেহে তাঁর দীর্ঘ এক দশকের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাকে এমন এক রেকর্ডে পরিণত করেছিলেন, যা কারোরই নজর এড়ানোর মতো ছিল না।