
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বুধবার ব্রাসেলসে একটি উচ্চ-পর্যায়ের কূটনৈতিক সফর শুরু করেছেন। সেখানে তিনি ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করা। জয়শঙ্কর ১৪-১৫ জুলাই বেলজিয়াম সফরে রয়েছেন। তিনি ভারতীয় মন্ত্রী এবং কর্মকর্তাদের এক উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে তৃতীয় ভারত-ইইউ ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজি কাউন্সিল (TTC) বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছেন।
বৈঠকের পর বিদেশমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি লেখেন, "ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট @antoniolscosta-র সঙ্গে দেখা করে আমি আনন্দিত। আমার সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী @PiyushGoyal, প্রতিমন্ত্রী @JitinPrasada এবং প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা অধ্যাপক অজয় কে সুদ। আমি প্রধানমন্ত্রী @narendramodi-র শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। এই বছরের শুরুতে হওয়া ভারত-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের পর আমাদের সম্পর্কের যে দারুণ উন্নতি হয়েছে, তা আমরা তুলে ধরেছি। আমাদের বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর পরামর্শ ও উষ্ণ মনোভাবের আমি প্রশংসা করি।" ছবি দেখুন
এই আলোচনায় ভারত-ইইউ সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান দিকগুলো উঠে আসে। বিশেষ করে উদ্ভাবন, বাণিজ্য, কৌশলগত বোঝাপড়া এবং প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়া হয়। এই বছরের শুরুতে হওয়া একটি বড় দ্বিপাক্ষিক সম্মেলনের পর থেকেই এই বিষয়গুলো গতি পেয়েছে।
ব্রাসেলসে সফরের শুরুতেই জয়শঙ্কর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশ ও নিরাপত্তা নীতি সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট কাজা কালাসের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এক্স-এ এই বৈঠক সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, "ব্রাসেলস সফর শুরুই করলাম ইইউ-এর হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ @kajakallas-এর সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং সেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আমাদের মধ্যে বেশ কাজের আলোচনা হয়েছে। নিরাপদ ও বাধাহীন সামুদ্রিক বাণিজ্যের গুরুত্ব নিয়েও আমরা মতবিনিময় করেছি। সাপ্লাই চেইন স্থিতিশীল রাখতে ভারত-ইইউ কৌশলগত অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও হয়েছে।" ছবি দেখুন
এই আলোচনায় ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার বদল নিয়ে দুই পক্ষের উদ্বেগই ফুটে ওঠে। আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন রক্ষা এবং সমুদ্রপথ খোলা রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।
আলোচনার পর কাজা কালাস ২০২৬ সালকে ভারত-ইইউ সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে বর্ণনা করেন। তিনি দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান পরিসরের কথা তুলে ধরেন। এক্স-এ একটি পোস্টে তিনি বলেন, "ইইউ-ভারত সম্পর্কের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক বছর। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে। আজ @DrSJaishankar-এর সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, বিশেষ করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে পেরে ভালো লাগল।" ছবি দেখুন
তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের একসঙ্গে মিলে নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে, খোলা ও স্থিতিশীল সাপ্লাই চেইন সুরক্ষিত করতে হবে। পাশাপাশি, ইন্দো-প্যাসিফিক এবং তার বাইরেও নিরাপত্তা বজায় রাখতে ইইউ-এর অপারেশন আটালান্টা ও অ্যাস্পাইডস এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করতে হবে।"
বিদেশমন্ত্রীর এই ব্রাসেলস সফর তাঁর বর্তমান বহু-দেশীয় সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মূল কেন্দ্রবিন্দু হল তৃতীয় ভারত-ইইউ টিটিসি বৈঠক। এই বৈঠকে দুই প্রতিনিধিদলই অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, পরিবেশবান্ধব শক্তি, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করার মতো বিষয়ে যৌথ প্রচেষ্টা বাড়াতে চায়।