
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর তীব্র সমালোচনা করলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কন্যা শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন যে, রাহুল গান্ধী কিছুদিন তৃণমূল স্তরে সক্রিয় থাকার পরই হঠাৎ 'গা-ঢাকা দেন' বা অদৃশ্য হয়ে যান। শর্মিষ্ঠা জোর দিয়ে বলেন যে, রাজনীতিকে একটি পূর্ণকালীন কাজ হিসেবে দেখা উচিত। আইএএনএস (IANS)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শর্মিষ্ঠা উল্লেখ করেন যে, ২০১৪ সাল থেকে—যখন রাহুল কংগ্রেসের প্রধান মুখ হিসেবে উঠে আসতে শুরু করেছিলেন—তখন থেকেই দলটি ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে হেরে চলেছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শর্মিষ্ঠা বলেন, "আমি কোনও আগাম অনুমান করব না। ২০২৪ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস ৯৯টি আসন জিতেছিল। তিনি (রাহুল গান্ধী) 'ভারত জোড়ো যাত্রা' করেছিলেন এবং তার ভালো ফলও পাওয়া গিয়েছিল।"
তিনি আরও বলেন, "কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, রাহুল গান্ধী কিছু কর্মসূচি পালন করেন এবং তারপরই অদৃশ্য হয়ে যান। 'ভারত জোড়ো যাত্রা'-র প্রথম বার্ষিকীর সময় তিনি কোথায় ছিলেন? রাজনীতি হল ২৪ ঘণ্টা ও ৩৬৫ দিনের কাজ। আপনি এলেন আর দুদিন পরেই চলে গেলেন—এমনটা হয় না। আপনি কিছু র্যালি করলেন, কিছু মানুষের সঙ্গে দেখা করলেন আর তারপরই সরে গেলেন। আমার মতে, রাজনীতি এমনটা নয়।" তিনি যোগ করেন, "বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনও রয়েছে। কেবল জোট গঠন করলেই নির্বাচনে জেতা যায় না। কংগ্রেসের প্রয়োজন দলকে শক্তিশালী করা। আমি যখন কংগ্রেসে কাজ করতাম, তখনও দেখতাম দলের মূল মনোযোগ থাকত কীভাবে জোট গড়ে জেতা যায়, সংগঠনের শক্তি বাড়ানোর দিকে নয়। নিজেদের শক্তিতে জেতার মতো মানসিকতা বা তাগিদ তাদের মধ্যে নেই।"
শর্মিষ্ঠা বলেন, কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তির উপর মনোযোগের অভাব এবং বারবার নির্বাচনে পরাজয় রাহুল গান্ধীর 'ব্যর্থতা'কেই তুলে ধরে। কারণ, তাঁর মতে, দলের প্রধান মুখ হওয়া সত্ত্বেও রাহুল দলের জন্য কোনও নির্ণায়ক জনসমর্থন বা ম্যান্ডেট নিশ্চিত করতে পারেননি। তিনি আইএএনএস-কে বলেন, "২০১৪ সাল থেকেই রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের প্রধান মুখ। ২০১৪ সাল থেকে কংগ্রেস একের পর এক নির্বাচনে হেরে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একজন জননেতা। তাঁর জনসমর্থন বা ম্যান্ডেট থেকেই তাঁর জনপ্রিয়তা বোঝা যায়। রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের জন্য তেমন জনসমর্থন আদায় করতে পারছেন না। এটি রাহুল গান্ধীরই ব্যর্থতা।"
তবে, রাহুল গান্ধী এবং তাঁর বোন তথা ওয়ায়নাডের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মধ্যে তুলনা করার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন শর্মিষ্ঠা। আইএএনএস (IANS)-কে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে আমার কোনও মতামত নেই। আমি যখন কংগ্রেসে ছিলাম, তখন আমি কনিষ্ঠ স্তরের কর্মী ছিলাম। রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে আমার যোগাযোগ বা মেলামেশা ছিল খুবই সীমিত। কংগ্রেস সম্পর্কে আমি যা-ই বলি না কেন, তা একজন পর্যবেক্ষক হিসেবেই বলি। কিন্তু আমি রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মধ্যে কোনও তুলনা করতে চাই না। কারণ তাঁদের দু'জনের কারোর সঙ্গেই আমার খুব একটা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল না।"