
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (X) পা রাখলেন কংগ্রেসের সংসদীয় দলের (সিপিপি) চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী। আর প্রথম পোস্টেই তিনি তাঁর আসন্ন আত্মজীবনী 'বিলঙ্গিং: আ জার্নি অফ লাভ'-এর ঝলক শেয়ার করেছেন। একটি ভিডিও পোস্টে তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখার স্মৃতি রোমন্থন করেন। তিনি জানান, ছাত্রাবস্থায় ইংল্যান্ডের একটি গ্রিক রেস্তোরাঁয় তাঁদের প্রথম দেখা হয়েছিল।
ইংল্যান্ডে ইতালীয় খাবারের খোঁজ করতে গিয়ে সোনিয়া গান্ধী কীভাবে ওই গ্রিক রেস্তোরাঁর সন্ধান পান, সেই গল্পও শুনিয়েছেন। তিনি জানান, ইউরোপীয় এবং ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের কাছে ওই রেস্তোরাঁটি বেশ জনপ্রিয় ছিল। আর সেখানেই রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা হয়।
ভিডিওতে সোনিয়া বলেন, "আমরা ওই জায়গাটা খুঁজে পেয়েছিলাম। ওটা একটা গ্রিক রেস্তোরাঁ ছিল। অনেক ছাত্রছাত্রী, বিশেষ করে ইউরোপীয়রা তো বটেই, ভারতীয়রাও সেখানে খেতে যেত।" তিনি আরও বলেন, "ওই রেস্তোরাঁতেই রাজীবের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়। প্রথম দেখাতেই আমার মনে হয়েছিল, এই মানুষটার সঙ্গেই আমি থাকতে চাই। পরে জানতে পারি, ওরও ঠিক একই রকম অনুভূতি হয়েছিল।"
সোনিয়া জানান, এক কমন বন্ধুর মাধ্যমেই তাঁদের আলাপ হয়েছিল। এরপর তাঁরা বন্ধু হন। একসঙ্গে বিভিন্ন পার্টিতে যাওয়া বা ঘুরতে যাওয়া শুরু করেন। তাঁর কথায়, "আমার মনে আছে, এক কমন বন্ধু আমাদের আলাপ করিয়ে দিয়েছিল। তারপর আমরা বন্ধু হয়ে যাই। বন্ধুদের সঙ্গে পার্টিতে যাওয়া, ঘুরতে যাওয়া শুরু হয়। আমরা একটা ভ্যালেন্টাইনস ডে পার্টিতেও গিয়েছিলাম, যেখানে অনেক ছাত্রছাত্রী ছিল।"
প্রথম দেখায় মুগ্ধ সোনিয়া
রাজীব গান্ধীকে প্রথমবার দেখে তাঁর কেমন লেগেছিল, সেটাও জানিয়েছেন সোনিয়া। তিনি বলেন, রাজীবের শান্ত স্বভাব তাঁকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিল। সোনিয়া বলেন, "ওকে দেখতে খুব শান্তশিষ্ট লাগত। এমনিতে ও খুব সুদর্শন ছিল। কিন্তু ওর ওই শান্ত স্বভাবটাই ফুটে উঠত। এই বিষয়টা আমার মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। প্রথম দেখার সেই মুহূর্তটা আমি জীবনেও ভুলব না।"
১৯৬৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজীব গান্ধীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সোনিয়া গান্ধী।
এর আগে বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রামেও যোগ দেন সোনিয়া গান্ধী। সেখানেও তিনি তাঁর প্রথম ভিডিও শেয়ার করেন। তাঁর আসন্ন আত্মজীবনী 'বিলঙ্গিং: আ জার্নি অফ লাভ'-এর প্রথম ঝলক সেখানেও তুলে ধরেন তিনি।
ইনস্টাগ্রামের প্রথম পোস্টে বইটির ঝলক শেয়ার করে তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, "সবাইকে নমস্কার, আপনাদের সবার সঙ্গে এই মুহূর্তটা শেয়ার করতে পেরে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। এই হল 'বিলঙ্গিং: আ জার্নি অফ লাভ'-এর প্রথম ঝলক।"
ওই পোস্টে আরও লেখা ছিল, "এটি প্রেম, কর্তব্য, হারানো এবং নিজের একটা জায়গা খুঁজে পাওয়ার গল্প। আপনাদের সঙ্গে এটা শেয়ার করার অপেক্ষায় রয়েছি।"
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইতালিতে সোনিয়া গান্ধীর ছোটবেলা, তাঁর প্রেম এবং ভারতে আসা— এই সব কিছুই উঠে এসেছে এই আত্মজীবনীতে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের নানা ক্ষতি কীভাবে তাঁকে বদলে দিয়েছে এবং এই দেশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কীভাবে গড়ে উঠেছে, সেই গল্পও বলা হয়েছে এই বইয়ে।