
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে শিবসেনা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে এক বড় প্রশ্ন উঠল। রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের ভেতরে কি গণতন্ত্র থাকা উচিত? নির্বাচন কমিশন একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠীকে 'আসল শিবসেনা' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী সুপ্রিম কোর্টে যায়। সেই মামলার শুনানিতেই এই প্রশ্ন তুলেছে আদালত।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহানার বেঞ্চ এই মামলা শুনছিল। তাঁরা বলেন, শিবসেনার গঠনতন্ত্রে বছরের পর বছর ধরে অনেক বদল এসেছে। একটা সময় এর কাঠামো গণতান্ত্রিক ছিল, কিন্তু এখন তা "কার্যত এক ব্যক্তির কাঠামো" হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, "সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যখন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মেনে চলতে হয়, তখন রাজনৈতিক দলগুলোও গণতান্ত্রিক নীতিতে চলছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার।" প্রধান বিচারপতি বলেন, "একসময় এই দলের গঠনতন্ত্র গণতান্ত্রিক নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। পরে তা সংশোধন করা হয় এবং কার্যত এক ব্যক্তির কাঠামোতে পরিণত হয়।"
উদ্ধব গোষ্ঠীর হয়ে সওয়াল করছিলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি এর বিরোধিতা করে বলেন, দলের প্রতীক নিয়ে বিবাদের মীমাংসা করার সময় নির্বাচন কমিশনের কোনো দলের গঠনতন্ত্র কতটা গণতান্ত্রিক, তা বিচার করার অধিকার নেই।
প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, এই বিতর্কটা নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়েও বড় সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলছে। তিনি বলেন, "আমরা যখন গণতান্ত্রিক নীতি এবং প্রতিষ্ঠান নিয়ে কথা বলি, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে যে একটি রাজনৈতিক দল নিজে কতটা গণতান্ত্রিকভাবে কাজ করবে?"
সিব্বল এর উত্তরে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিকভাবে কাজ করা উচিত, এটা ঠিক। কিন্তু তাদের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক করে দেখা যায় না।
তিনি যুক্তি দেন, "সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাংবিধানিক কাজ করে, আর রাজনৈতিক দলগুলো রাজনৈতিক কাজ করে। তাই সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সততার মান অনেক বেশি হওয়া উচিত। একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সবসময় শুধরে নেওয়া যায়। কিন্তু এই ধরনের পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন একবার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলে, তা পাল্টানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।"
এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১১ আগস্ট। প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে শিবসেনা দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে উদ্ধব ঠাকরে এবং অন্যটির নেতৃত্বে একনাথ শিন্ডে।
এই ভাঙনের পর, শিন্ডে নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে নিজেদের আসল শিবসেনা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। দলের নাম এবং বিখ্যাত 'তির-ধনুক' প্রতীকও দাবি করেন তিনি। নির্বাচন কমিশন এই বিবাদের মীমাংসা করার সময় দলের সাংগঠনিক শক্তির চেয়ে বিধায়কদের সংখ্যার উপর বেশি জোর দিয়েছিল।