
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রাতরাশের টেবিলে বসতে চলেছেন NDA-র প্রায় ৪৫ জন নতুন এবং প্রথমবার নির্বাচিত হওয়া লোকসভা সাংসদ। আগামী ৭ আগস্ট, সকাল ৯টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এই বৈঠক হবে। বিজেপি সূত্রে এএনআই-কে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকে তৃণমূল এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-র মতো দল থেকে সদ্য এনডিএ-তে যোগ দেওয়া সাংসদরাও থাকবেন। এর ঠিক আগেই প্রধানমন্ত্রী বিজেপির নতুন রাজ্যসভা সাংসদদের সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ডাকা এই প্রাতরাশ বৈঠকে যোগ দেবেন কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে এনসিপিআই নেতা ইউসুফ পাঠান বলেন, "হ্যাঁ, আমি যাব। দেশের জন্য যা ভালো, আমরা তাই করব। আমি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করব।" যদিও এর আগে এনডিএ-র একটি বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন ইউসুফ পাঠানরা। তৃণমূলের দলবদলু২০ সাংসদদের মধ্যে ১৭ জনই উপস্থিত ছিলেন সেই বৈঠকে। ইউসুফ পাঠান-সহ তিনি সাংসদদের তৃণমূলে ফেরা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছিল। তবে মোদীর বৈঠকে যে কাকলি ঘোষদস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায়, শতাব্দীরা উপস্থিত থাকবেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
এর আগে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিজেপির ৩৭ জন নতুন রাজ্যসভা সাংসদের সঙ্গে তাঁর বাসভবনে প্রাতরাশ বৈঠক করেন। অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে সেই বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন এবং সাংসদদের সমস্ত প্রশ্নের উত্তরও দেন। সূত্রের খবর, বুধবার রাজ্যসভার সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের বলেন, "দিল্লির মায়াজালে জড়িয়ে পড়বেন না" এবং শুধুমাত্র লুটিয়েন্স দিল্লির মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রাখতে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "দিল্লিতে কার সঙ্গে মিশছেন বা কার সঙ্গে বসছেন, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। নিজের লেটারহেড কীভাবে ব্যবহার করছেন এবং আপনার আচরণ কেমন, সেদিকে খুব খেয়াল রাখতে হবে।"
প্রযুক্তির ভালো-মন্দ দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া সাবধানে এবং মর্যাদার সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত। তাঁর কথায়, "কখনও কখনও হাউসের পরিবেশ এমন থাকে যে উদ্বেগ তৈরি হয়। সেই উদ্বেগ নিজের সঙ্গে বাইরে বয়ে নিয়ে যাবেন না। রেগে গিয়ে চিৎকার করারও কোনও প্রয়োজন নেই। আপনারা সবাই দলের নীতি জানেন, শান্তভাবে প্রতিটি বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরুন।" তিনি আরও বলেন, "টিভিতে কেউ আজেবাজে কথা বলবেন না। সবসময় পূর্ণ মর্যাদা বজায় রাখুন।"
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং এক্স-এর মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের সঙ্গে কথা বলুন, সরকারি জনকল্যাণমূলক কাজের কথা জানান এবং খেলাধুলার জন্য তাঁদের উৎসাহিত করুন।
প্রধানমন্ত্রী সাংসদদের শাসক ও বিরোধী, দুই দলের সাংসদদের সঙ্গেই পরিচিত হতে বলেন। তাঁর কথায়, "হাউসে আপনার সহকর্মী কারা, তা আপনার জানা উচিত।" এক সাংসদ যখন প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেন যে তিনি কীভাবে এত কাজ একসঙ্গে সামলান, তখন প্রধানমন্ত্রী উত্তর দেন, "আমি বর্তমানে বাঁচি।"
তিনি বলেন, "এই মুহূর্তে আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি, তাই আমি এখানেই আছি। অন্য কিছু নিয়ে ভাবছি না।" তাঁর পরামর্শ, "বর্তমানে থাকুন এবং দেশের ভালো ভবিষ্যতের জন্য কাজ করুন। আমি মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা ঘুমাই, কিন্তু প্রতিদিন যোগাসন করি, যা আমাকে ঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। আপনাদেরও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা এবং প্রতিদিন যোগাসন করা উচিত।" সাংসদের লেটারহেড শুধুমাত্র জনকল্যাণমূলক কাজেই ব্যবহার করার কথা বলেন তিনি।
বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ অশোক মিত্তল এএনআই-কে বলেন, "আমাদের প্রায় ৩৫ জন সাংসদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছি। ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ পেয়েছি। আমি প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তরুণদের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ বাড়াব? উনি বললেন, 'ওদের কথা মন দিয়ে শুনুন, ওদের বুঝুন এবং নম্রভাবে কথা বলুন'।"
রাজ্যসভা সাংসদ বিক্রমজিৎ সিং সাহনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে সংসদকে মসৃণভাবে চলতে দিতে হবে। তিনি সাংসদদের প্রতিদিন অন্তত এক-দুই ঘণ্টা সংসদ লাইব্রেরিতে কাটানোর জন্য উৎসাহিত করেছেন।"
বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহা বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকটি দারুণ ছিল। আমরা ভাগ্যবান যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকের কথা শুনেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।" সম্প্রতি আপ এবং তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাজ্যসভা সাংসদরাও এই বৈঠকে ছিলেন।
বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ সুস্মিতা দেব বলেন, "প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছেন, সংসদ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো, যেখানে সারা দেশের নেতারা আসেন। আমাদের একে অপরের কাছ থেকে শেখা উচিত এবং সর্বদা মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা উচিত।"