
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ - ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ক্যানসারের ওষুধের দাম নিয়ে কেন্দ্রকে রীতিমতো ভর্ৎসনা করেছে। একটি ক্যানসার ইনজেকশনের উদাহরণ দিয়ে বেঞ্চ ওষুধ কেনার খরচ আর রোগীদের থেকে নেওয়া দামের মধ্যে এত ফারাক কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছে। আদালতের এই কড়া বার্তার পর আগামী মাস থেকেই ১৩৭টি ক্যানসারের ওষুধের দাম প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
আদালতের এই পদক্ষেপ দেশের একটা পুরনো সমস্যাকেই আবার সামনে এনেছে। আজও বহু ভারতীয়ের কাছে জীবনদায়ী ওষুধ কেনাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। রোগীরা জরুরি ওষুধের জন্য বিপুল টাকা গুনতে বাধ্য হন। এর ফলে চিকিৎসায় যেমন বাধা আসে, তেমনই পরিবারগুলো আর্থিকভাবে একেবারে ভেঙে পড়ে।
সুপ্রিম কোর্ট ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে ওষুধের দাম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। বিচারপতিরা ওষুধ কোম্পানিগুলোর তৈরি বা কেনার খরচ এবং রোগীদের দেওয়া দামের মধ্যে থাকা বিশাল ফারাকটা বিশেষভাবে নজরে আনেন। আদালত একটি ক্যানসার ইনজেকশনের উদাহরণ দিয়ে এই ভয়ংকর বৈষম্যটা সবার সামনে তুলে ধরে।
আদালতের এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। ১৩৭টি ক্যানসারের ওষুধের দাম ৭০ শতাংশ কমলে রোগী ও তাঁদের পরিবারের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে। এর ফলে আরও বেশি মানুষ সঠিক সময়ে চিকিৎসা করাতে পারবেন।
বিচারপতিরা ওষুধের আকাশছোঁয়া দামের সমস্যাটা বোঝাতে একটি ক্যানসার ইনজেকশনের উদাহরণ টেনে আনেন। ক্যানসার চিকিৎসায় অত্যন্ত জরুরি এই ওষুধটি তৈরির খরচ আর রোগীদের থেকে নেওয়া দামের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। আদালত এই নির্দিষ্ট উদাহরণটি দিয়ে ওষুধের সাপ্লাই চেইনে বিপুল পরিমাণ মুনাফা লোটার সম্ভাবনার দিকে আঙুল তুলেছে।
এই ক্যানসার ইনজেকশনের ঘটনাটা কোনও বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। জরুরি ক্যানসারের ওষুধ যে সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে, এটা তারই একটা বড় প্রমাণ। আদালত এমন একটি জীবনদায়ী ওষুধের দিকে নজর দেওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। এর ফলে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আদালতের এই বার্তার প্রভাব বেশ বড় হতে চলেছে। শোনা যাচ্ছে, ভারতের রোগীরা আগামী মাসেই ক্যানসার চিকিৎসার খরচে বড়সড় পতন দেখতে পাবেন। এর ফলে জরুরি চিকিৎসাগুলো আরও সহজলভ্য হবে। ক্যানসারের খরচ জোগাতে গিয়ে হিমশিম খাওয়া পরিবারগুলো এতে তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাবে।
কর্তৃপক্ষ আদালতের এই চাপের পর নীতিগত পরিবর্তনগুলোর দিকে নজর রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরে ন্যায্য দামের যে দাবি আদালত করেছে, এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত তারই সরাসরি ফল। এর ফলে জীবনদায়ী ওষুধগুলো আরও সস্তা হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ ক্যানসার চিকিৎসার একটা বড় অংশে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। দাম কমানোর জন্য ১৩৭টি ক্যানসারের ওষুধকে টার্গেট করা হয়েছে। এর মানে হল, স্বস্তি শুধু কয়েকটা ওষুধের মধ্যেই আটকে থাকবে না। বিভিন্ন ধরনের এবং বিভিন্ন স্টেজের ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত অনেক থেরাপিতেই এর সুবিধা পাওয়া যাবে।
দাম কমতে পারে প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। এই জরুরি ওষুধগুলোর দামের ক্ষেত্রে এটা একটা বিরাট পরিবর্তন। আগামী মাসে আসতে চলা এই বড়সড় কাটছাঁট আদালতের দৃঢ়তারই প্রমাণ। বিচারপতিরা রোগীদের বিপুল আর্থিক চাপের একটা সুরাহা করতে চাইছেন। ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে এটা একটা বড় টার্নিং পয়েন্ট।