
দেশের বিভিন্ন রাজ্যে চলা 'খয়রাতি বা ভাতা সংস্কৃতি' নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ু রাজ্যের বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্তার করা একটি আর্জির পরিপ্রেক্ষিতে এই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টে।
রাজনৈতিক দলগুলির 'খয়রাতি সংস্কৃতি' বা বিনামূল্যে প্রকল্প বিলি করার সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, এই ধরনের খয়রাতির ফলে রাজ্যের কোষাগারের ওপর মারাত্মক চাপ পড়ছে। এর বদলে বেকারত্ব দূর করার মতো পরিকল্পিত প্রকল্প তৈরির পরামর্শ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেছে, 'দেশের অধিকাংশ রাজ্যে রাজস্ব ঘাটতি সত্ত্বেও খয়রাতির রমরমা চলছে'
দেশের সব রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির 'খয়রাতি' বিলি করার প্রবণতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ রাজ্যের আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলছে।
আদালতের মতে, রাজনৈতিক দলগুলির উচিত বিনামূল্যে জিনিসপত্র বিলি না করে, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিত নীতি তৈরি করা। যেমন, বেকারত্ব মোকাবিলার জন্য নতুন প্রকল্প আনা যেতে পারে।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, "এইভাবে খয়রাতি বিলি করলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধাক্কা খাবে। হ্যাঁ, মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাজ্যের কর্তব্য, কিন্তু যারা এই বিনামূল্যের সুবিধা নিচ্ছেন... সেই বিষয়টাও কি খতিয়ে দেখা উচিত নয়?"
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, "রাজ্যগুলো ঋণের বোঝায় ডুবে যাচ্ছে, কিন্তু তারপরেও খয়রাতি বিলি করে চলেছে। ভাবুন, বছরে আপনারা যে রাজস্ব আদায় করেন, তার ২৫ শতাংশ কেন রাজ্যের উন্নয়নে ব্যবহার করা যাবে না?"
আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই সমস্যা শুধু একটি রাজ্যের নয়, দেশের সব রাজ্যের।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী যোগ করেন, "আমরা শুধু একটা রাজ্যের কথা বলছি না, সব রাজ্যের ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য। এটা একটা পরিকল্পিত খরচ। আপনারা বাজেটে প্রস্তাব এনে তার সপক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন না কেন? কেন বলছেন না যে, বেকারদের জন্য আমার এই বরাদ্দ রয়েছে?"
একটা সময় ছিল যখন এই ধরনের বিনামূল্যে প্রকল্প শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবেই দেখা হত। কিন্তু এখন ভারতে ভোট জেতার জন্য এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
'অ্যাকুইটাস ইনভেস্টমেন্টস'-এর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের নামে খয়রাতি বিলি করে ভোট পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এর ফলে রাজ্যের কোষাগারের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, "রাজনৈতিক দলগুলো যেন এক অসম প্রতিযোগিতায় নেমেছে। জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং 'খয়রাতি' এখন আর শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং রাজনৈতিক ক্ষমতার নতুন মুদ্রা হয়ে উঠেছে।"
তামিলনাড়ু রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা রাজ্যের সব মানুষকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দিতে চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। সেই মামলার শুনানি হয় দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে।
সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট তামিলনাড়ু সরকারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, 'দেশে কী ধরনের সংস্কৃতি তৈরি করছি আমরা? আমরা বুঝতে পারছি যারা বিদ্যুতের বিল দিতে পারেন না তাদের জন্যই আপনাজের এই উদ্যোগ। কিন্তু কে পারবেন আর কে পারবেন না, তা আদালা না করে আপনারা পরিষেবা দিতে শুরু করবেন। এটা কি তুষ্ট করার নীতি নয়!'
সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের আঁচ পড়েছে এই রাজ্যেও। এই রাজ্যে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চলে। যার কারণে চাপ বাড়ছে নবান্নের কোষাগারে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।