
মোদী-ম্যাক্রোঁর মুম্বাই কার রাইড: মুম্বাইয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর গাড়ি ভ্রমণ শুধু ছবিই নয়, একটি বড় কূটনৈতিক বার্তাও দিয়েছে। ম্যাক্রোঁ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন- “জয় হো”। মোদী-ম্যাক্রোঁ জুটির এক ভিন্ন মেজাজ দেখা গেল। ৭টি ছবিতে দেখুন দুই নেতার ভিন্ন अंदाज... প্রশ্ন উঠছে, এটা কি শুধু বন্ধুত্বপূর্ণ ভঙ্গি ছিল নাকি ভারত-ফ্রান্স বিশেষ বিশ্বব্যাপী কৌশলগত অংশীদারিত্বের (India-France Special Global Strategic Partnership) নতুন সূচনার ইঙ্গিত?
মোদী-ম্যাক্রোঁর মুম্বাই কার রাইড: ছবির আড়ালে কী বার্তা?
দ্বিপাক্ষিক এবং প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনার পর দুই নেতা ইন্ডিয়া-ফ্রান্স ইনোভেশন ফোরামের (India-France Innovation Forum) জন্য একসঙ্গে রওনা হন। এই সাক্ষাৎ এমন এক সময়ে হয়েছে যখন বিশ্ব ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে ভারত-ফ্রান্স বিশেষ বিশ্বব্যাপী কৌশলগত অংশীদারিত্বে (Special Global Strategic Partnership) উন্নীত করেছে।
বিশেষ বিশ্বব্যাপী কৌশলগত অংশীদারিত্বে কী বিশেষত্ব?
এই সফরে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, উচ্চ প্রযুক্তি, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মতি হয়েছে। মোট ২১টি চুক্তি এবং নথিতে স্বাক্ষর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন যে ভারত এবং ফ্রান্স একসঙ্গে “বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য শক্তি” হয়ে উঠতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন যে ফ্রান্সের দক্ষতা এবং ভারতের পরিধি একসঙ্গে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
এয়ারবাস H125 অ্যাসেম্বলি লাইন: ভারত কি মহাকাশ শিল্পকেন্দ্র হবে?
কর্ণাটকের ওয়েমগালে এয়ারবাস H125 হেলিকপ্টারের অ্যাসেম্বলি লাইনের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ ভারতের মহাকাশ উৎপাদন ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন যে এই হেলিকপ্টার মাউন্ট এভারেস্টের মতো উচ্চতাতেও কাজ করতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে রপ্তানি করা হবে। অর্থাৎ, “মেক ইন ইন্ডিয়া” বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেতে পারে।
প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং হ্যামার মিসাইল জেভি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
দুই দেশের মধ্যে ২১টি চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিটি বিশেষ। ভারতে হ্যামার মিসাইল তৈরির জন্য ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড এবং সাফরান-এর মধ্যে একটি যৌথ উদ্যোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হল—ভারতেই উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি হবে, যা আত্মনির্ভরতা এবং সামরিক শক্তি উভয়ই বাড়াবে। পাশাপাশি, ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং ফরাসি স্থলবাহিনীর কর্মকর্তাদের পারস্পরিক মোতায়েনেরও ব্যবস্থা রয়েছে। এটি শুধু একটি চুক্তি নয়, সামরিক সহযোগিতার গভীরতাও প্রদর্শন করে।
বৈশ্বিক স্থিতিশীলতায় ভারত-ফ্রান্সের ভূমিকা কী?
প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্টভাবে বলেছেন যে এক অনিশ্চিত বিশ্বে ভারত-ফ্রান্স অংশীদারিত্ব স্থিতিশীলতার স্তম্ভ হয়ে উঠতে পারে। দুই দেশের লক্ষ্য কৌশলগত বিশ্বাস, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার উপর। একটি গাড়ি ভ্রমণের ছবি থেকে শুরু হওয়া আলোচনা এখন একটি বড় কৌশলগত বার্তায় পরিণত হয়েছে। মোদী-ম্যাক্রোঁ মুম্বাই বৈঠক (Modi-Macron Mumbai Meeting) দেখিয়েছে যে ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক (India-France Relations) শুধু আনুষ্ঠানিক নয়, কৌশলগত গভীরতায় পৌঁছেছে। আগামী সময়ে এর প্রভাব প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং বিশ্ব রাজনীতিতে স্পষ্টভাবে দেখা যেতে পারে।
‘জয় হো’ কি শুধু ক্যাপশন ছিল নাকি কূটনৈতিক বার্তা?
ম্যাক্রোঁর “জয় হো” লেখাটি প্রতীকী বলে মনে করা হচ্ছে। এটি সাংস্কৃতিক সম্মানের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশ্বাসের ইঙ্গিতও হতে পারে। আজ যখন রাশিয়া-ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে, তখন ভারত-ফ্রান্স অংশীদারিত্বকে “বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার” শক্তি হিসেবে বর্ণনা করা একটি বড় বার্তা।