
কেন্দ্রীয় সরকার ১ মে থেকে কার্যকর আরেকটি বড় পরিবর্তন এনেছে। ডিজেল এবং জেট জ্বালানির (ATF) উপর রফতানি শুল্ক কমানো হয়েছে। ডিজেলের উপর রফতানি শুল্ক প্রতি লিটারে ২৩ টাকা এবং জেট জ্বালানির উপর প্রতি লিটারে ৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, পেট্রোলের ওপর রফতানি শুল্ক অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ পেট্রোলকে রফতানি শুল্কের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে যে, অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের উপর আবগারি শুল্কে (excise duty) কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। প্রতি ১৫ দিন অন্তর পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী রফতানি শুল্ক কমানো হয়েছে। শুল্ক হ্রাসের এই সুফল জ্বালানি কোম্পানি এবং বিমান সংস্থাগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। সরকারের একজন কর্তাও জানিয়েছেন যে, পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে খুচরো জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনও প্রস্তাব বর্তমানে বিবেচনাধীন নেই। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মাও নিশ্চিত করেছেন যে, এই মুহূর্তে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম সংশোধন বা পরিবর্তনের কোনও পরিকল্পনা নেই। শর্মা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এলপিজি (LPG), পেট্রোল এবং ডিজেল পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। দামও বাড়েনি, তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। সরবরাহের পরিমাণ এখনও পর্যাপ্তই রয়েছে।
বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে
তেল কোম্পানিগুলো বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম ৯৯৩ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে দিল্লিতে এখন একটি সিলিন্ডারের দাম ৩,০০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিশেষ করে হোটেল ও রেস্তরাঁর খাবারের বিল এবং বিয়ের অনুষ্ঠানের খরচ বেড়ে যাবে। এছাড়া, রাস্তার ধারের হকার বা বিক্রেতাদের খরচও বাড়তে পারে, যার ফলে তাদের পণ্যের দামও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৫ কেজি ওজনের সিলিন্ডারগুলোও এখন আরও ব্যয়বহুল
৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৬১ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সিলিন্ডারগুলো মূলত অভিবাসী শ্রমিক, দিনমজুর এবং অভিবাসী শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা হয়ে থাকে। মূল্যবৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের ফলে এই শ্রেণির সিলিন্ডার ব্যবহারকারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
কিন্তু কেন বাড়ল দাম?
উল্লেখ্য যে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনার কারণে 'হরমুজ প্রণালী' (Strait of Hormuz) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এটিই সেই প্রধান জলপথ, যার মাধ্যমেই ভারতের অধিকাংশ তেল ও গ্যাসের সরবরাহ এবং বিশ্বের মোট সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এসে থাকে। তেল ও গ্যাস সরবরাহে সৃষ্ট এই বিঘ্নের কারণেই গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, অপরিশোধিত তেলের দামও ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।