
Today Fuel Price: বিশ্ব বাজারে অব্যাহত তেলের দাম ওঠানামা। এরই মধ্যে সরকারি তেল সংস্থাগুলি বুধবার পেট্রল ও ডিজেলের নতুন দাম ঘোষণা করেছে। দেশের বেশিরভাগ শহরেই দাম মোটামুটি একই রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমলেও, তার প্রভাব এখনও দেশের জ্বালানির দামে পড়েনি। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন করে কোনও স্বস্তির খবর নেই, আবার দাম বাড়ার বোঝাও চাপেনি।
প্রায় মাসখানেক আগে পেট্রল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় সাড়ে সাত টাকা বেড়েছিল। তারপর থেকে দাম প্রায় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। তাই ক্রেতারা এখন আন্তর্জাতিক বাজারের দিকে তাকিয়ে আছেন, যদি ভবিষ্যতে দাম কিছুটা কমে।
আজকের আপডেট অনুযায়ী, প্রধান শহরগুলিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম:-
| শহর | পেট্রল (টাকা/লিটার) | ডিজেল (টাকা/লিটার) |
| নতুন দিল্লি | ১০২.১২ | ৯৫.২০ |
| মুম্বাই | ১১১.২১ | ৯৭.৮৩ |
| চেন্নাই | ১০৭.৭৬ | ৯৯.৫৫ |
| কলকাতা | ১১৩.৪৭ | ৯৯.৮২ |
| হায়দ্রাবাদ | ১১৫.৬৯ | ১০৩.৮২ |
| বেঙ্গালুরু | ১১০.৯৩ | ৯৮.৮০ |
গুরুগ্রাম: পেট্রল ১০২.৯৭ টাকা/লিটার, ডিজেল ৯৫.৬৪ টাকা/লিটার
নয়ডা: পেট্রল ১০২.০৮ টাকা/লিটার, ডিজেল ৯৫.৫৬ টাকা/লিটার
চণ্ডীগড়: পেট্রল ১০১.৫৪ টাকা/লিটার, ডিজেল ৮৯.৪৭ টাকা/লিটার
জয়পুর: পেট্রল ১১৩.৩৫ টাকা/লিটার, ডিজেল ৯৮.৩৯ টাকা/লিটার
ভুবনেশ্বর: পেট্রল ১০৮.৯৭ টাকা/লিটার, ডিজেল ১০০.৬৮ টাকা/লিটার
লখনউ: পেট্রলের দাম ১৬ পয়সা বেড়ে ১০২.০৮ টাকা/লিটার, ডিজেলের দাম ১৫ পয়সা বেড়ে ৯৫.৫৬ টাকা/লিটার
পাটনা: পেট্রলের দাম ১৭ পয়সা কমে ১১৩.৩৭ টাকা/লিটার, ডিজেলের দাম ১৮ পয়সা কমে ৯৯.৩৬ টাকা/লিটার
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির মেলায় বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। এর পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের ট্যাঙ্কার চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, যা তেল সরবরাহের উদ্বেগ কমিয়েছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের অগাস্ট মাসের চুক্তি প্রায় ০.৪৫% কমে প্রতি ব্যারেল ৭৬.৭৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ০.৪৮% কমে ৭২.৮৬ ডলার প্রতি ব্যারেল হয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা আরও এগোয়, তাহলে ইরানের তেল বিশ্ব বাজারে আসতে পারে। এর ফলে জোগান বাড়বে এবং দামের উপর চাপ কমবে। আমেরিকাও ইরানকে ২১ অগাস্ট পর্যন্ত তেল উৎপাদন ও রফতানি চালিয়ে যাওয়ার জন্য ৬০ দিনের ছাড় দিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের জোগান বাড়ার আশা তৈরি করেছে।
যদিও অপরিশোধিত তেলের দাম কমাটা সাধারণ মানুষের জন্য একটা ভালো খবর, কিন্তু ভারতে জ্বালানির দাম শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভর করে না। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বসানো কর, ডলারের তুলনায় টাকার দাম, শোধনাগারের খরচ, পরিবহণ খরচ এবং তেল সংস্থাগুলির নিজস্ব সিদ্ধান্ত—এই সবকিছুর ওপর দাম নির্ভর করে। ফলে, অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও তার সুফল পেট্রল পাম্পে পৌঁছতে কিছুটা সময় লাগে।
আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা আশাব্যঞ্জক। যদি অপরিশোধিত তেলের দাম কম থাকে এবং বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা মসৃণ থাকে, তাহলে আগামী সপ্তাহগুলিতে জ্বালানির দামের ওপর চাপ কমতে পারে।
আমেরিকা-ইরান আলোচনা, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এবং বিশ্ব বাজারের দিকে তাকিয়ে ভারতীয় ক্রেতারা আশা করছেন যে, তেলের দাম কমলে অবশেষে পেট্রল পাম্পে কিছুটা স্বস্তি মিলবে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।