
Udhayanidhi Stalin Detained: অভিনেত্রী তৃষা এবং মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের সম্পর্ক টেনে জনসভায় ইঙ্গিতপূর্ণ ও কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগে তামিলনাড়ুর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা ডিএমকে (DMK) নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনকে আটক করল পুলিশ। মঙ্গলবার চেন্নাইয়ের নীলঙ্করাইয়ে অবস্থিত নিজের বাসভবন থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পুত্রকে হেফাজতে নেয় তাঞ্জাবুর পূর্ব থানার পুলিশ দল। কাবেরী নদীর জলবণ্টন ইস্যুতে তাঞ্জাবুরে ডিএমকে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় ভাষণ দেওয়ার সময় উদয়নিধির করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল তৈরি হয়। সেই মন্তব্যের জেরেই এখন তুলকালাম তামিল রাজনীতি।
ঘটনার সূত্রপাত ওই জনসভায় বিরোধী দলনেতা উদয়নিধির বক্তব্য চলাকালীন। রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে উদয়নিধি অভিযোগ তোলেন, তামিলনাড়ুর জন্য বরাদ্দ ৪৫ টিএমসি জলের এক ফোঁটাও রাজ্যে আসেনি। ঠিক সেই সময় জনসভার ভিড় থেকে কয়েকজন সমর্থক অভিনেত্রী তৃষার নাম ধরে চিৎকার করতে শুরু করেন। ভাষণ থামিয়ে উদয়নিধি একটু হেসে এমন একটি মন্তব্য করেন, যাকে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় ও উক্ত অভিনেত্রীর বন্ধুত্ব নিয়ে দ্ব্যর্থবোধক ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কটাক্ষ বলে ব্যাখ্যা করে ক্ষমতাসীন দল টিভেকে (TVK)। যদিও পরে উদয়নিধি সাফাই দিয়ে জানান, তিনি কেবল কাবেরী নদীর জল নিয়েই কথা বলছিলেন এবং তাঁর বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, তামিল সিনেমার দুই সুপারস্টার- বর্তমানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় ও তারকা অভিনেত্রী তৃষার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছে।
কী বলেছিলেন উদয়নিধি
Tamil Nadu Leader of the Opposition Udhayanidhi Stalin called his detention "vengeful" after he sparked controversy with a remark that was widely interpreted as an allusion to actor Trisha, a close friend of Chief Minister Vijay. Dramatic scenes played out on Tuesday after cops… pic.twitter.com/fNuvUeEVhB
— IndiaToday (@IndiaToday) August 4, 2026
ভিডিওটি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তাঞ্জাবুরে উদয়নিধির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারা সহ নারী নির্যাতন দমন আইন এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে যাওয়ার সময় এই পুরো ঘটনাকে 'কমেডি' বলে উড়িয়ে দেন ডিএমকে নেতা। তাঁর দাবি, আসল সমস্যা থেকে জনগণের নজর ঘোরাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এডিটেড ও ভুয়ো ক্লিপ ছড়ানো হয়েছে। আদালতে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়ে ক্ষমতাসীন দলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "সরকারের সবাই এখন রিলসের দুনিয়ায় বাস করছে।"
এর আগে একই ইস্যুতে ডিএমকে বিধায়ক অনিতা আর রাধাকৃষ্ণনকেও পুলিশ আটক করেছিল। উদয়নিধির এই ধরনের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিও। অন্যদিকে ডিএমকে নেতৃত্বের দাবি, সরকার নিজেদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতেই বিরোধী দলনেতাকে হেনস্থা করছে। এই ঘটনার পর তামিলনাড়ুতে ডিএমকে এবং টিভেকে-র মধ্যকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করল।