
উদয়ানিধি স্ট্যালিন। বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে এদিন সকালেই তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ। বিকেলে থাঞ্জাভুরের সেঙ্গিপট্টি থানা থেকে তিনি বেরোতেই দলের পতাকা নেড়ে, স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান প্রচুর ডিএমকে কর্মী।
অভিনেত্রী ত্রিশাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় মাদ্রাজ হাইকোর্ট তামিলনাড়ু পুলিশকে নির্দেশ দেয়, জিজ্ঞাসাবাদের পর যেন উদয়ানিধিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আদালত আরও জানায়, তদন্তে সহযোগিতার জন্য যখনই প্রয়োজন হবে, উদয়ানিধিকে হাজিরা দিতে হবে।
তামিলনাড়ুর অ্যাডভোকেট জেনারেল বিজয় নারায়ণ আদালতে জানান যে পুলিশ উদয়ানিধির বিচারবিভাগীয় হেফাজত চাইছে না। এরপরই আদালত তাঁর আগাম জামিনের আবেদন শোনে।
ঘটনার সূত্রপাত কাবেরী নদীর জলবন্টন নিয়ে একটি প্রতিবাদ সভায়। সেখানে জমায়েতের মধ্যে থেকে কেউ কেউ 'ত্রিশা, ত্রিশা' বলে চিৎকার করতে থাকেন। অভিযোগ, সেই সময় উদয়ানিধি বলেন, "জল অন্য কোথাও পৌঁছোক বা না পৌঁছোক, ওখানে পৌঁছানো উচিত।" যদিও এরপরই তিনি স্পষ্ট করে দেন যে তিনি কাবেরী নদীর জলের কথা বলছেন।
এই মন্তব্যের পরেই তামিলাগা ভেট্রি কাঝাগাম (TVK)-এর মহিলা শাখা থাঞ্জাভুর পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। তাদের দাবি, ডিএমকে নেতা অভিনেত্রী ত্রিশাকে নিশানা করে দ্বিচারিতামূলক মন্তব্য করেছেন। যদিও ডিএমকে-র তরফে জানানো হয়েছে, উদয়ানিধির মন্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যের লক্ষ্য ছিল সরকারের কাজকর্ম, কোনও ব্যক্তি নন।
এর আগে, কাবেরী ইস্যুতে একটি জনসভায় করা মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া এফআইআর-এর ভিত্তিতে পুলিশ উদয়ানিধিকে চেন্নাইয়ের নীলানকরাইয়ের বাড়ি থেকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে থাঞ্জাভুরে নিয়ে যাওয়া হয়।
উদয়ানিধি বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ৬১, ৭৯, ১৯২, ১৯৬, ২৯৬(বি), ৩৫১(২) এবং ৩৫২ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া তামিলনাড়ু মহিলা হেনস্থা প্রতিরোধ আইনের ৪ নম্বর ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ নম্বর ধারাও যোগ করা হয়েছে।
আটক হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উদয়ানিধি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তাঁর বক্তৃতার সম্পাদিত ক্লিপ ছড়িয়ে দিয়ে একটি "ভুয়ো গল্প" তৈরি করা হয়েছে।