মহারাষ্ট্রের পুনেতে এমপএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভে যোগ দিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে। তাঁর দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কারসাজিতেই 'মোদী হাওয়া'র চেয়েও এখন বেশি রাজ্যে জিতছে বিজেপি।

বিজেপির টানা জয়ের তীব্র সমালোচনা করলেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) কর্মী অভিজিৎ দিপকে। তাঁর অভিযোগ, 'মোদী হাওয়া' যখন তুঙ্গে ছিল, তখনও যে রাজ্যগুলোতে বিজেপি জিততে পারেনি, এখন সেখানেও তারা অনায়াসে জিতে যাচ্ছে। আর এর পেছনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

কী করে অনায়াস জয় পাচ্ছে BJP?

রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিপকে বলেন, "মোদী হাওয়ার সময়ও বিজেপি যেখানে জিততে পারেনি, এখন সেখানেও তারা জিতছে। আর এই পুরো বিষয়টা হচ্ছে জ্ঞানেশ কুমারের জন্য। যেদিন জ্ঞানেশ কুমার পদ ছাড়বেন এবং এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া বন্ধ হবে, সেদিনই বোঝা যাবে বিজেপি আসলে কতগুলো আসনে জেতে।" মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করে ডিপকে বলেন, দেশের নির্বাচনের ফলাফল এখন আগে থেকেই "ঠিক করা" থাকে। তাই এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনও মানেই হয় না। তিনি আরও বলেন, "আমার মনে হয়, যতক্ষণ না জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করছেন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ এই ধরনের ভোটে অংশ নিয়ে কোনও লাভ নেই। কারণ কে জিতবে, তা আগে থেকেই ঠিক করা থাকছে।"

মহারাষ্ট্রের পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ

মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন (এমপএসসি) পরীক্ষায় অনিয়ম এবং নিয়োগ বকেয়া থাকার অভিযোগে মহারাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন পড়ুয়ারা। পুনেতে সেই আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতেই গিয়েছিলেন ডিপকে। সেখানেই তিনি এই মন্তব্য করেন। শাসক দলের প্রশাসনিক ব্যর্থতার সঙ্গে নির্বাচনী বিতর্ককে জুড়ে দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া—উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

এমপএসসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করে ডিপকে বলেন, "আমি এখানে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ওদের ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে। সরকার এই ফাঁস হওয়া নিয়ে একেবারেই সিরিয়াস নয়। সিজেপি ওদের দাবিকে সমর্থন করে। এমপএসসি চেয়ারম্যান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলবে।"

কমিশন নিয়ে তোপ

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি রিপোর্টের পর সম্প্রতি একটি বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ভোটার তালিকা, ভোটার নিবন্ধন এবং কমিশনের প্রযুক্তিগত সিস্টেম সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। এই বিতর্কের মাঝেই ডিপকের এই মন্তব্য সামনে এল। তবে নির্বাচন কমিশন এই দাবি খারিজ করে দিয়েছে। তাদের মতে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এই আপত্তিগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক মতবিরোধ বলা যায় না। পোল প্যানেল জানিয়েছে, খসড়া পর্যায়ে যে প্রশ্ন, মতামত বা পরামর্শ দেওয়া হয়, তা তাদের স্বাভাবিক প্রশাসনিক ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ারই একটা অংশ। ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) স্পষ্ট জানিয়েছে, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার সময়সূচি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছিল।