
ইলন মাস্ক ও ভারতের রাজনৈতিক-বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের আবহে এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসির বক্তব্যকে সমর্থন করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। ওয়েইসির প্রশংসা করে তিনি বিরোধীদের নিশানা করেছেন। তাঁর মন্তব্য, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কখনও কখনও ওয়েইসি বুদ্ধিমানের মতো কথা বলেন। এরপরই বিরোধী নেতাদের উদ্দেশে রিজিজুর পরামর্শ, তাঁর কথা শুনতে না চাইলে ওয়েইসির কাছ থেকেই শিক্ষা নেওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয়ে কখনও কখনও আসাদউদ্দিন ওয়েইসি যুক্তিসংগত কথা বলেন। তবে ওয়েইসির মুসলিমকেন্দ্রিক রাজনৈতিক নীতির বিরোধিতা করে বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
রিজিজুর বক্তব্য, বিরোধী দলের কিছু নেতা যদি তাঁদের কথা শুনতে না চান, তা হলে ওয়েইসির কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, “এ বার স্পষ্ট হয়ে গেল, কারা দেশবিরোধী গোষ্ঠী।” যদিও কাদের উদ্দেশে তিনি এই মন্তব্য করেছেন, তাঁদের নাম নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেননি।
সম্প্রতি ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিঙ্কের ভারতে বাণিজ্যিক পরিষেবা চালু করতে দেরি হওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মাস্ক ভারতের ব্যবসায়িক পরিবেশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানিকে নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে ওয়েইসি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরোধিতা করা এক বিষয়, আর কোনও বিদেশি ব্যবসায়ীর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও দেশের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা অন্য বিষয়। তাঁর বক্তব্য, মোদী সরকারের বিরোধিতা করলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনও বিদেশি ব্যবসায়ীর হস্তক্ষেপ তিনি মেনে নেবেন না। একই সঙ্গে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয়তাবাদী অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ওয়েইসি। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে বিদেশি প্রভাবশালীদের সামনে সরকারকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।
ইলন মাস্কের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেন। মুকেশ আম্বানিকে ঘিরে মাস্কের প্রশ্নের জবাবে রাহুল সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শিল্পপতিদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। তবে এই বিতর্কে ওয়েইসির অবস্থান ছিল আলাদা। মোদী সরকারের বিরোধী হলেও তিনি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি ব্যবসায়ীর প্রভাব বিস্তারের বিরোধিতা করেছেন। আর সেই অবস্থানকেই হাতিয়ার করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন কিরেন রিজিজু।