
দেরাদুন এবং পাহাড়ি জেলাগুলিতে একটানা বৃষ্টির কারণে নদীর জলস্তর বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দেরাদুনের এসএসপি দুন পুলিশকে অ্যালার্ট মোডে রেখেছেন। সমস্ত থানা এলাকার সংবেদনশীল জায়গাগুলিতে পুলিশের আলাদা দল টহল দিচ্ছে এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। যারা নদী, স্রোত এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় বাস করেন, তাদের লাউডহেলারের মাধ্যমে নিয়মিত সতর্ক করা হচ্ছে। জলস্তর ক্রমাগত বাড়ার কারণে তাদের নদীর পাড় এবং জলপথ থেকে দূরে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, উত্তরাখণ্ডের পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহ হ্রদগুলির সম্ভাব্য বিপদ মাথায় রেখে রাজ্য সরকার নজরদারি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করবে। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি এই কথা জানান। নেপালে হিমবাহ ধসের কারণে হওয়া বিধ্বংসী বন্যার উদাহরণ দিয়ে তিনি কর্তৃপক্ষকে হিমবাহ হ্রদগুলির নিয়মিত ও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে উন্নতমানের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা (early warning system) বসানোর কথাও বলেছেন।
সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার সকালে নেপালে বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ হয়েছে। এখনও ৯১০ জন নিখোঁজ বা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। নদীর উজানে নতুন তৈরি হওয়া একটি হ্রদ থেকে আরও একটি বড় বন্যার আশঙ্কার মধ্যে কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও ত্রাণকাজ জোরদার করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বিপর্যয় মোকাবিলা ও পুনর্বাসন সচিব বিনোদ কুমার সুমনকে রাজ্যের সমস্ত সংবেদনশীল হিমবাহ হ্রদগুলির ওপর একটি বিস্তারিত সমীক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হ্রদগুলির অবস্থা, জলের স্তর, আকারের পরিবর্তন, চারপাশের ভূখণ্ড এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির জায়গাগুলি নিরীক্ষণের জন্য নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে। সম্ভাব্য বিপদের ক্ষেত্রে সময়মতো সতর্কতা নিশ্চিত করতে আধুনিক সেন্সর, জলস্তর মাপার সরঞ্জাম, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত উপকরণের জোগান নিশ্চিত করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও নির্দেশ দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা স্থাপন করলেই চলবে না। হিমবাহ হ্রদ থেকে সৃষ্ট বিপর্যয়ের সম্ভাব্য প্রভাব কমাতে সমস্ত প্রয়োজনীয় সুরক্ষা এবং ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থাও নিতে হবে। সংবেদনশীল এলাকাগুলি চিহ্নিত করে নিরাপদ আশ্রয়পথ, সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের ম্যাপিং, শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থানীয় স্তরে সতর্কতা ব্যবস্থা এবং ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানের জন্য প্রস্তুতি আরও বাড়ানো হবে।