Uttarakhand: গুগল ম্যাপেও খুঁজে পাবেন না, নন্দাদেবীর কোলে এই গ্রামে সময় ১০০ বছর পিছিয়ে

Published : May 27, 2026, 12:54 AM IST
Mountain

সংক্ষিপ্ত

Uttarakhand Village: নন্দাদেবী পর্বতের ছায়ায় উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় লুকিয়ে আছে লাতা, রেইনি, মালারির মতো কিছু গ্রাম। এখানে আজও বিদ্যুৎ, নেটওয়ার্ক, রাস্তা পৌঁছায়নি ঠিকমতো। কাঠ-পাথরের ঘর, ভেড়ার লোমের কম্বল, আর শতবর্ষ পুরনো ভোটিয়া সংস্কৃতি। গ্রামবাসীরা আজও নন্দাদেবীকে জীবন্ত দেবী মানে। বছরের ৬ মাস বরফে ঢেকে থাকে, বাকি ৬ মাস নিজের নিয়মে চলে জীবন।

Uttarakhand: দেওয়ালজুড়ে ফাইভ জি-র বিজ্ঞাপন, হাতে অত্যাধুনিক মোবাইল ফোন। অথচ ভারতেই এমন একটা জায়গা আছে যেখানে আজও চিঠি লিখতে হয়। কারণ নেটওয়ার্ক নেই। উত্তরাখণ্ডে নন্দাদেবীর (Nanda Devi) পায়ের কাছে, চামোলি জেলার নীতি ভ্যালিতে লুকিয়ে আছে লাতা, মালারির মতো কিছু গ্রাম। এখানে ঢুকলে মনে হবে, ক্যালেন্ডার থেকে ১০০টা বছর কেউ ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছে।

কেন এখানে সময় থমকে আছে? 

৩ কারণ: 

১. রাস্তা নেই, দুনিয়া নেই: জোশীমঠ থেকে মালারি পর্যন্ত রাস্তা আছে। তারপর লাতা, রেইনি, গামশালি, এই গ্রামগুলিতে যেতে হয় পায়ে হেঁটে। ২০১৩ সালের বন্যা আর ২০২১ সালের হিমবাহ বিপর্যয়ে অনেক সেতু, রাস্তা ভেসে গেছে। সরকার বানায়, প্রকৃতি ভাঙে। তাই বাইরের দুনিয়া এখানে ঢুকতে পারে না। 

২. নন্দাদেবীর অভিশাপ ও আশীর্বাদ: স্থানীয় ভোটিয়া জনজাতি বিশ্বাস করে, নন্দাদেবী রুষ্ট হলে গ্রামে বিপর্যয় আসে। তাই ১৯৮৩ সালে নন্দাদেবী ন্যাশনাল পার্ক তৈরি হওয়ার পর এখানকার মানুষের চারণভূমি, পশুপালন বন্ধ হয়ে যায়। বাইরের লোকের প্রবেশ নিষেধ। অভিশাপে গ্রাম থমকে গেল, কিন্তু আশীর্বাদে প্রকৃতি বেঁচে গেল। 

৩. বছরে ৬ মাস ঘুম: নভেম্বর থেকে এপ্রিল, সারা উপত্যকা ১০-১৫ ফুট বরফে ঢেকে যায়। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে থাকে। গ্রামবাসীরা জোশীমঠে নেমে আসেন। মে মাসে বরফ গললে আবার ফিরে যান। এই ৬ মাসের ‘শাটডাউন’ সভ্যতাকে আটকে রেখেছে।

কী দেখবেন? 

১০০ বছর আগের জীবন: 

১. কাঠ-পাথরের ঘর: সিমেন্ট নয়, স্থানীয় পাথর আর দেওদার কাঠ দিয়ে তৈরি দু-তলা ঘর। নিচের তলায় ভেড়া-ছাগল, উপরে মানুষ। ঘরের ভিতর কাঠের উনুন, ধোঁয়ায় কালো দেওয়াল। 

২. ভোটিয়া সংস্কৃতি: এঁদের পূর্বপুরুষ তিব্বত থেকে এসেছিলেন। তাই খাবার, পোশাক, ভাষা সব আলাদা। ‘থুকপা’, ‘ছুরপি’, ‘লোকাল ওয়াইন’ খান। মহিলারা ভেড়ার লোমে নিজের হাতে কম্বল, জ্যাকেট বোনেন। 

৩. নন্দাদেবীর মন্দির: লাতা গ্রামে আছে নন্দাদেবীর প্রাচীন মন্দির। গ্রামবাসীরা বিশ্বাস করেন, দেবী এখানেই থাকেন। প্রতি বছর ‘নন্দা অষ্টমী’তে বিশাল মেলা হয়। তখন ৬ মাসের জন্য গ্রাম জেগে ওঠে।

কীভাবে যাবেন? 

রাস্তা কিন্তু সহজ নয়: 

১. রুট: হরিদ্বার/ঋষিকেশ → জোশীমঠ → মালারি → লাতা। জোশিমঠ পর্যন্ত বাস/গাড়ি। তারপর মালারি পর্যন্ত শেয়ার জিপ। শেষ ১০-১২ কিমি ট্রেক। 

২. পারমিট: নন্দাদেবী বেস ক্যাম্প বা ইনার লাইনের গ্রামে যেতে হলে জোশীমঠ এসডিএম অফিস থেকে ইনার লাইন পারমিট লাগবে। আধার কার্ড জরুরি। 

৩. কখন যাবেন: মে মাসের শেষ থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি। জুলাই-আগস্টে ধস নামার ভয় থাকে। সেপ্টেম্বর সেরা সময়। আকাশ পরিষ্কার, নন্দাদেবীর পূর্ব দিক দেখা যায়।

যাওয়ার আগে চারটে জিনিস মাথায় রাখুন : 

১. নেটওয়ার্ক ভুলে যান: বেশিরভাগ সময়ই মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। বাড়িতে জানিয়ে যান, ৪-৫ দিন খবর পাবে না। 

২. হোমস্টেই ভরসা: হোটেল নেই। গ্রামবাসীর বাড়িতেই থাকতে হবে। দিন প্রতি ৮০০-১২০০ টাকা, খাওয়া সমেত। সুযোগ-সুবিধার আশা কম রাখুন। কমোড, গিজার পাবেন না। 

৩. নগদ নিয়ে যান: এটিএম, ইউপিআই ভুলে যান। জোশীমঠ থেকে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ নিয়ে নিন। 

৪. প্রকৃতিকে সম্মান করুন: প্লাস্টিক ফেলবেন না। স্থানীয়দের ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন। এরা সরল, কিন্তু ব্যক্তিগত গোপনীয়তা পছন্দ করে।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

কুর্সি বদলের জল্পনায় জল! দিল্লিতে সিদ্দারামাইয়া-শিবকুমারের মেগা বৈঠক শেষে বড় বার্তা কংগ্রেসের
Heatwave Special Zoo: তীব্র গরম থেকে বাঁচাতে হাতিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা, চিড়িয়াখানায় খাবারে কী কী বদল হল জানেন