
কর্নাটকে কংগ্রেসের নেতৃত্ব ও মুখ্যমন্ত্রিত্ব বদলের জল্পনা কি সত্যি? কংগ্রেস এই খবরকে সরাসরি "জল্পনা" বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দলের তরফে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার কারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। মুখ্যমন্ত্রী ইস্যুতে কংগ্রেসের দুই নেতার সঙ্গে কোনও কথাই হয়নি বলেও দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা কেসি ভেনুগোপাল।
আসন্ন রাজ্যসভা এবং কাউন্সিল নির্বাচন নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের পর কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, কর্নাটকের রাজ্যসভা আসনের জন্য প্রার্থীদের নাম অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গেই ঘোষণা করা হবে। নয়াদিল্লিতে এই বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও উপস্থিত ছিলেন। বেণুগোপাল বলেন, "আজ আমরা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া, উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার, কর্নাটকের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা এবং আমি বৈঠকে ছিলাম। পুরো আলোচনাটাই আসন্ন রাজ্যসভা ও কাউন্সিল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হয়েছে।"
কংগ্রেস নেতা আরও যোগ করেন, "আপনারা (সংবাদমাধ্যম) যা জল্পনা করছেন, তা পুরোটাই জল্পনা। এর মধ্যে কোনও সত্যতা নেই... কর্নাটকের রাজ্যসভা ও কাউন্সিল আসনের প্রার্থীদের নাম অন্য রাজ্যের সঙ্গেই ঘোষণা করা হবে... আজ শুধু এই সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে, আর কিছু নয়।"
প্রসঙ্গত, কর্নাটকে কংগ্রেস সরকার আড়াই বছরের মেয়াদ পূর্ণ করার পর থেকেই নেতৃত্ব বদলের একটা গুঞ্জন চলছিল। সিদ্দারামাইয়াকে আলোচনার জন্য দিল্লিতে তলব করার পর সেই জল্পনা আরও তীব্র হয়। বর্তমানে রাজ্য সরকারের তিন বছর পূর্ণ হয়েছে। গত ১৮ মাস ধরেই শিবকুমারের সমর্থকরা বারবার দাবি করে আসছেন যে, তিনিই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। শিবকুমারের সমর্থকদের দাবি ছিল প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ডিকেএসকেই পছন্দ। সিদ্দারামাইয়াকে নয়। আর সেই কারণে সিদ্দারামাইয়ার জায়হায় শিবকুমারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জল্পনা দিনেদিনে বাড়ছিল।