
Weather Update: জলবায়ু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, পৃথিবী শীঘ্রই একটি শক্তিশালী 'এল নিনো' (El Niño) দশায় প্রবেশ করতে পারে—যা সম্ভবত সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে অন্যতম তীব্র একটি ঘটনা হতে চলেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, চলতি বছরের শেষের দিকে এই ঘটনাটি দানা বাঁধতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটাতে পারে। যার মধ্যে ভারতে তীব্র দাবদাহ এবং বর্ষার অস্বাভাবিক আচরণ অন্যতম।
'ইউরোপীয় সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টস' (ECMWF)-এর নতুন তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবী হয়তো একটি শক্তিশালী কিংবা এমনকি একটি 'সুপার' এল নিনো (Super El Nino) ঘটনার সম্মুখীন হতে চলেছে। পূর্বাভাস মডেলগুলোতে দেখা যাচ্ছে যে, জুনের মধ্যেই মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় সংকেতগুলো একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে শুরু করেছে—যা এই জলবায়ু ঘটনার বিকাশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে 'এল নিনো', যা একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা তখন ঘটে যখন প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
এল নিনো কী?
সাধারণ পরিস্থিতিতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণ জলকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঠেলে নিয়ে যায় বাতাস। অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের কাছাকাছি অঞ্চলগুলোতে সমুদ্রের গভীর থেকে অপেক্ষাকৃত শীতল জল উপরে উঠে আসে। এল নিনো চলাকালীন সময়ে, এই বায়ুপ্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং উষ্ণ জল প্রশান্ত মহাসাগর জুড়ে পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
এর ফলে বিশ্বব্যাপী বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালনে (atmospheric circulation) একটি বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। সমুদ্রের উষ্ণ জল প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের ওপরের বায়ুকে উষ্ণ করে উপরে উঠতে উদ্দীপিত করে, যার ফলে সেখানে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। একই সময়ে, ভারত মহাসাগর এবং আফ্রিকার কিছু অংশের মতো অঞ্চলগুলোতে বায়ু ওপর থেকে নীচে নেমে আসে (sinking air)। যা বৃষ্টিপাতকে বাধাগ্রস্ত করে এবং তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন পূর্বাভাসগুলোতে এল নিনোর একটি 'অত্যন্ত ধ্রুপদী' (classic) বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিক্রিয়া দানা বাঁধতে দেখা যাচ্ছে—যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপরের বায়ু প্রবলভাবে উপরে উঠছে এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বায়ু নীচে নেমে আসছে।
ভারত কেন তীব্র তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হতে পারে?
ভারতের ক্ষেত্রে, এল নিনো ঘটনাগুলো ঐতিহাসিকভাবেই উচ্চ তাপমাত্রা এবং দুর্বল বর্ষার বৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। ভারতের গ্রীষ্মকালীন বর্ষা মূলত স্থলভাগ ও মহাসাগরের তাপমাত্রার পার্থক্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এল নিনো চলাকালীন বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালনের পরিবর্তিত ধরন বর্ষার বায়ুপ্রবাহকে দুর্বল করে দিতে পারে—যে বায়ুপ্রবাহ সাধারণত আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প বহন করে নিয়ে আসে।
যদি পূর্বাভাস অনুযায়ী এই শক্তিশালী এল নিনো ঘটনাটি পূর্ণাঙ্গ রূপ নেয়, তবে এটি উত্তর ও মধ্য ভারতে তীব্র দাবদাহ বা তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। পাশাপাশি বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে। একটি শক্তিশালী এল নিনো বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রাকে রেকর্ড-উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। ভারত ছাড়িয়ে, এই জলবায়ুর ধরণ বিশ্বজুড়ে আবহাওয়াকে নতুন করে আকার দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে আটলান্টিকের শক্তিশালী উল্লম্ব বায়ু শিয়ার হারিকেনের কার্যকলাপকে দমন করতে পারে, অন্যদিকে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি টাইফুন দেখা দিতে পারে।