
রান্নার মতো গৃহস্থালির কাজ না করাটা নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য হতে পারে না। শুক্রবার একটি বিবাহবিচ্ছেদ মামলার শুনানিতে মৌখিকভাবে এমন পর্যবেক্ষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সন্দীপ মেহতা বলেছেন, "আপনি কোনও পরিচারিকাকে বিয়ে করছেন না, আপনি একজন জীবনসঙ্গীকে বিয়ে করছেন।" দেশের সর্বোচ্চ আদালত জোর দিয়ে বলেছে যে, সময় এখন বদলে গিয়েছে এবং স্বামীকেও এ ধরনের গৃহস্থালি কাজে অবদান রাখতে হবে। বিচারপতি বিক্রম নাথ বলেন, "রান্না করা, কাপড় কাচা, এসব কাজে আপনাকেও সহায়তা করতে হবে। বর্তমান সময়টা এখন ভিন্ন।"
এর আগে, সর্বোচ্চ আদালত মামলার দুই পক্ষকে মধ্যস্থতার (mediation) জন্য পাঠিয়েছিল, কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। দম্পতি ২০১৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাঁদের ৮ বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। মামলার বাদী তথা স্বামী বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিয়ের মাত্র এক সপ্তাহ পরেই স্ত্রীর আচরণ বদলে যায় এবং তিনি স্বামীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, স্ত্রী তাঁর এবং তাঁর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ব্যবহার করতেন, তাঁদের জন্য রান্না করতে অস্বীকৃতি জানাতেন এবং সন্তানের জন্ম দিলেও তাঁর নামকরণ অনুষ্ঠানে স্বামীকে আমন্ত্রণ জানাননি।
অন্যদিকে, স্ত্রী দাবি করেন যে—বাদী (স্বামী) এবং তাঁর পরিবারের সম্মতিক্রমেই তিনি সন্তানের জন্মের সময় তাঁর বাবা-মায়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন; অথচ তাঁরা সেই নামকরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি এবং তাঁর বাবা-মায়ের কাছে নগদ অর্থ ও সোনা যৌতুক হিসেবে দাবি করেছিলেন।
পারিবারিক আদালত (Family Court) স্বামীর আবেদন মঞ্জুর করে এবং 'নিষ্ঠুরতা'-র (cruelty) দায়ে বিবাহবিচ্ছেদের রায় দেয়। স্ত্রী এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন এবং হাইকোর্ট বিবাহবিচ্ছেদের সেই রায়টি বাতিল করে দেয়। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বামী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। পরবর্তী শুনানির দিন দুই পক্ষকেই সশরীরে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।