
উত্তরপ্রদেশের হারদইয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিবাদকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। সাধনা নামে এক মহিলা অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামী দীপক তাঁকে মারধর করে নাকে কামড়ে জখম করেছেন এবং নালায় ফেলে দিয়েছেন। সেই সময় শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁর হাত ধরে রেখেছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। অন্যদিকে, দীপকের পরিবারের পাল্টা অভিযোগ, সাধনা তাঁর স্বামীর গোপনাঙ্গে কামড়ে দেন এবং পরে নিজেই মাটিতে মাথা ঠুকে আহত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় আড়াই মাস আগে সাধনা স্বামীর বাড়ি ছেড়ে এক প্রেমিকের সঙ্গে থাকতে চলে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার আচমকাই তিনি স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপরই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র ঝামেলা শুরু হয়। সান্ডি থানার SHO পুষ্পরাজ জানিয়েছেন, হঠাৎ করে সাধনা ফিরে আসার পর দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। সেই সময় দীপক তাঁকে মারধর করেন এবং তাঁর নাকে কামড়ে দেন বলে অভিযোগ। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’পক্ষকেই থানায় নিয়ে যায়। পরে দীপককে হেফাজতে নেওয়া হয়। সাধনাকে প্রথমে সান্ডি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হারদই মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, দীপকের পরিবারের তরফে সাধনার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। দীপকের মায়ের দাবি, প্রায় আড়াই মাস আগে এলাকারই এক যুবকের সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন সাধনা। ওই যুবক দীপকের বন্ধুও বলে দাবি পরিবারের। পরিবারের দাবি, সেই সময় পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল এবং পরে আপোস হয়ে যায়। এরপর হঠাৎ সাধনা বাড়িতে ফিরে এসে সন্তানদের নিজের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তা নিয়েই ফের বিবাদ শুরু হয়। দীপকের মায়ের অভিযোগ, সেই সময় সাধনা তাঁর স্বামীর গোপনাঙ্গে কামড় দেন। এরপর মাটিতে মাথা ঠুকে নিজেই আহত হন। প্রায় ১০ বছর আগে সাধনা ও দীপকের বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের তিনটি মেয়ে রয়েছে। তাদের বয়স যথাক্রমে ৮, ৬ এবং ৩ বছর। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত সাধনার পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অন্যদিকে, দীপকের মা অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।