
মহিলা সংরক্ষণ এবং নতুন আদমশুমারি ছাড়াই নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় ভোটাভুটি পাশ করাতে পারল না সরকার। দু’দিনের বিতর্ক-পর্ব শেষে শুক্রবার বিকেলে বিল নিয়ে ভোটাভুটি হয়। বিলের পক্ষে পড়ে ২৭৮ টি ভোট। বিপক্ষে ২৩০টি। মোট ৪৮৯ জন সাংসদ ভোটাভুটিতে অংশ নেন। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিল পাশের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। বিল পাশ করাতে ৩২৬টি ভোটের প্রয়োজন ছিল। সেটা পেতে ব্যর্থ হয়েছে মোদী সরকার। এর পরপরই সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ঘোষণা করেন যে, অপর দুটি বিলও আর ভোটাভুটিতে নিয়ে যাওয়া হবে না
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী শুক্রবার মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। ২০২৯ সালের লোকসভা ভোট থেকে মহিলা সংরক্ষণ চালু করার জন্য যে ডিলিমিটেশন বিল আনা হয়েছে, তার সমালোচনা করে রাহুল বলেন, "এর সঙ্গে মহিলাদের ক্ষমতায়নের কোনও সম্পর্কই নেই।" তাঁর মতে, এটা আসলে "ভারতের নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দেওয়ার একটা চেষ্টা।"
লোকসভায় এই তিনটি বিল নিয়ে বিতর্কে অংশ নিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, এটা "জাতভিত্তিক জনগণনাকে পাশ কাটানোর একটা চেষ্টা"। তিনি সরাসরি বলেন, "প্রথম সত্যিটা হল, এটা কোনও মহিলা বিল নয়। মহিলাদের ক্ষমতায়নের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্কই নেই। এটা আসলে ভারতের নির্বাচনী মানচিত্র বদলানোর চেষ্টা। সত্যি বলতে, এটা একটা লজ্জাজনক কাজ।"
জাতি গণনা এড়াতে চায় কেন্দ্র
রাহুল আরও বলেন, "এখানে যা করার চেষ্টা হচ্ছে, তা হল জাতভিত্তিক জনগণনাকে এড়িয়ে যাওয়া। ওরা আমার ওবিসি ভাই-বোনদের ক্ষমতা এবং প্রতিনিধিত্ব দিতে চায় না... আসল কথা হল, সংসদ বা বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার জন্য জাতভিত্তিক জনগণনা ব্যবহার করা হবে কি না। আপনারা যা করতে চাইছেন, তা হল প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে জাতভিত্তিক জনগণনার সম্পর্কটাই মুছে দেওয়া। যাতে এই বিষয়টাকে আরও ১০ বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়া যায়।" লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সাফ জানিয়ে দেন, বিরোধী শিবির এই তিনটি বিল পাশ হতে দেবে না। তিনি সরকারকে অবিলম্বে 'নারী শক্তি আইন' কার্যকর করার দাবি জানান। তিনি বলেন, "মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়া খুব সহজ কাজ, আর প্রত্যেক বিরোধী সদস্যই এটা পাশ করিয়ে দেবে... এখনই সেই পুরনো বিলটা ফিরিয়ে আনুন, আমরা এই মুহূর্তে সেটা পাশ করতে সাহায্য করব। ওটাই ছিল আসল মহিলা বিল, এটা অন্য কিছু। এটার আসল সত্যিটা মানুষের সামনে বলা দরকার।"