
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত পুলিশকে লোকসভার বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যে, তারা যেন বিষয়টি নিয়ে নিজেরাই তদন্ত করে অথবা তদন্তের জন্য কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে বিষয়টি হস্তান্তর করে। বিজেপি কর্মী এস বিঘ্নেশ শিশিরের দায়ের করা একটি পিটিশনের শুনানিতে আদালত এই নির্দেশ দেয়। শিশির লখনউয়ের একটি বিশেষ এমপি/এমএলএ (MP/MLA) আদালত কর্তৃক গত ২৮ জানুয়ারির একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। নিম্ন আদালত কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের আর্জিটি খারিজ করে দিয়েছিল।
এর আগে, বিশেষ আদালত রায় দিয়েছিল যে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলোর মীমাংসা করার এখতিয়ার তাদের নেই। আর সেই কারণেই তারা ওই আর্জিটি প্রত্যাখ্যান করেছিল। উত্থাপিত উদ্বেগগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাইকোর্ট জানায় যে, বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। আদালত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয় যেন তারা উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয় এবং নিশ্চিত করে যে, বিষয়টি আইন অনুযায়ী যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হয়।
এই মামলাটি সেই অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত যেখানে দাবি করা হয়েছে যে রাহুল গান্ধীর সম্ভবত ব্রিটিশ নাগরিকত্ব রয়েছে। যা ভারতীয় আইন অনুযায়ী অনুমোদিত নয়। ভারতীয় আইন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি কেবল একটি দেশেরই নাগরিকত্ব ধারণ করতে পারেন। যদি কোনও ব্যক্তির দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকে, তবে তিনি ভারতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না কিংবা সাংসদ সদস্য হতে পারেন না। এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে এমন কিছু অভিযোগ থেকে, যেখানে ব্রিটেন-ভিত্তিক একটি কোম্পানির নথিপত্রের উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নথিপত্রে রাহুল গান্ধীকে 'ব্রিটিশ নাগরিক' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং দাপ্তরিক নথিপত্রে তিনি লন্ডনের একটি ঠিকানা উল্লেখ করেছেন। এই দাবিগুলোর ভিত্তিতে একটি পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনসহ বিভিন্ন আইনি বিধানের অধীনে একটি এফআইআর দায়ের এবং বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল।
নিম্ন আদালত (এমপি/এমএলএ আদালত) এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বিষয়টি এলাহাবাদ হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। নিম্ন আদালত জানিয়েছিল যে, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলোর মীমাংসা করার মতো আইনি এখতিয়ার তাদের নেই।