Lakhpati Didi: বছরে আয় ১০ লাখ! গুজরাটের এক সাধারণ গৃহবধূ যেভাবে বহু মহিলার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠলেন

Published : Mar 07, 2026, 03:32 PM IST
Womens Day Gujarats Asmitaben Patel A Lakhpati Didi Success Story of Empowerment

সংক্ষিপ্ত

Lakhpati Didi: আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে সকলের নজর কেড়েছেন গুজরাটের আস্মিতা অশোক প্যাটেল। সাধারণ কৃষক পরিবারের মেয়ে থেকে আজ তিনি একজন সফল উদ্যোগপতি, যাঁর বার্ষিক আয় ১০.২০ লক্ষ টাকা। আরও ১০ জন গ্রামীণ মহিলাকে তিনি স্বনির্ভর করেছেন। 

আগামী ৮ মার্চ সারা দেশ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করবে। এই বিশেষ দিনের আগে গুজরাটের চিখলি তালুকের সোলধারা গ্রামের বাসিন্দা অস্মিতা অশোক প্যাটেলের জীবন সংগ্রাম যেন এক জ্বলন্ত উদাহরণ। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, "নারীর ক্ষমতাই সমাজের আসল শক্তি।"

অস্মিতার উত্থানের গল্প

এক কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসে অস্মিতা শুধু নিজের ব্যবসাই দাঁড় করাননি, তাঁর সঙ্গে আরও ১০ জন মহিলাকে স্বনির্ভরতার পথ দেখিয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর স্বপ্নকেই প্রতিফলিত করে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এপ্রিলে সুরাটে 'ভাইব্র্যান্ট গুজরাট রিজিওনাল কনফারেন্স (VGRC) সাউথ গুজরাট' অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হবে স্থানীয় মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং গ্রামীণ উদ্যোগপতিদের বিশ্বের বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা। অস্মিতার মতো মহিলা উদ্যোগপতিদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হতে চলেছে।

কৃষক পরিবারে বড় হওয়ায় অস্মিতা ছোট থেকেই চাষবাস ও পশুপালনের কাজ শিখেছিলেন। আর্ট টিচার ডিপ্লোমা (ATD) করার সময়ই তিনি বাবাকে হারান। শ্বশুরবাড়ির সমর্থনে এবং নিজের জেদে তিনি এগিয়ে চলেন। বিয়ের পর বিএ ডিগ্রিও সম্পূর্ণ করেন। চাষবাসের সীমিত আয়ে সংসার চালাতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। সেই কঠিন সময়ে, ২০১০-১১ সাল নাগাদ তিনি মৌমাছি পালনের একটি কোর্স করেন। বাড়িতেই মধু উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেন।

এরপর ২০১৪ সালে নভসারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি বেকারি কোর্সও করেন। এই শেখার আগ্রহই ধীরে ধীরে তাঁর পরিচিতি হয়ে ওঠে। ২০১৫ সালে গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পরামর্শে अस्मिता ১০ জন মহিলাকে নিয়ে তৈরি করেন 'সহ্যাদ্রি সখী মণ্ডল'। প্রথমে তাঁরা আম, লেবু এবং করমচা দিয়ে আচার তৈরি শুরু করেন। 'মিশন মঙ্গলম' প্রকল্পের অধীনে ১৫,০০০ টাকার একটি তহবিল পেয়ে তাঁরা রাগি (নাগলি) দিয়ে পাপড়, বিস্কুট এবং ময়দার মতো জিনিস তৈরি করতে শুরু করেন।

স্থানীয়, জেলা এবং আঞ্চলিক কৃষি মেলায় সেই সব পণ্য বিক্রি হতে থাকে। পরে, তাঁরা ২ লক্ষ টাকার একটি ব্যবসায়িক ঋণ পান এবং সেই টাকায় হলুদ প্রক্রিয়াকরণ ও গুঁড়ো করার মেশিন কেনেন। আজ अस्मिता এবং তাঁর 'সহ্যাদ্রি সখী মণ্ডল'-এর মহিলারা প্রাকৃতিক এবং হাতে তৈরি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন করেন। কেউ বাড়ি থেকে মধুর প্যাকিং করেন, আবার কেউ আচার, আমলকি ক্যান্ডি, রাগি ওয়েফার্স এবং বাঁশের হস্তশিল্প তৈরি ও বিক্রি করেন। তাঁদের তৈরি জিনিস স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রাজ্য ও জাতীয় স্তরের 'সরস' (SARAS) মেলাতেও বিক্রি হয়। বর্তমানে আস্মিতার বার্ষিক আয় ১০.২০ লক্ষ টাকা। তিনি শুধু একজন "লাখপতি দিদি" নন, নিজের গ্রাম ও সম্প্রদায়ের একজন সম্মানীয় পথপ্রদর্শকও। তিনি তাঁর সাফল্যের কৃতিত্ব 'মিশন মঙ্গলম' প্রকল্প এবং গ্রামীণ মহিলাদের স্বাবলম্বী করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টাকেই দেন। NRLM (ন্যাশনাল রুরাল লাইভলিহুড মিশন)-এর অধীনে আস্মিতার কাজ একাধিক স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন।

এছাড়াও, গুজরাট সরকারের তরফে "কৃষি রত্ন পুরস্কার" এবং ২০১৫ সালের এপ্রিলে জেলা স্তরে এগ্রিকালচার টেকনোলজি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (ATMA) পুরস্কার পেয়েছেন। अस्मिता প্যাটেলের এই যাত্রা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, এটি গ্রামীণ উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন এবং স্থায়ী জীবিকার এক দারুণ উদাহরণ। 'সহ্যাদ্রি সখী মণ্ডল'-এর মাধ্যমে তিনি স্থানীয় কাঁচামাল, ঐতিহ্যগত দক্ষতা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছেন। আস্মিতার গর্বের সঙ্গে বলেন, "একজোট শিকড় থেকে যেমন একটা শক্তিশালী গাছ জন্মায়, আর সুযোগ পেলে তার ডালপালা মেলে দেয়, আমাদের দলটাও আজ সেভাবেই দাঁড়িয়ে আছে।" তাঁর এই লড়াই প্রমাণ করে যে, মহিলারা একত্রিত হলে তাঁদের উন্নতি বাড়ি থেকে সমাজ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আস্মিতার মতো "লাখপতি দিদি"-দের কুর্নিশ, যাঁদের প্রচেষ্টা সমাজে নতুন সুযোগ তৈরি করছে এবং ইতিবাচক পরিবর্তনে সাহায্য করছে।

 

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

সৌদি আরবে Mossad-র হয়ে কাজ করা ভারতীয় এজেন্ট গ্রেফতার? সত্যিটা জানা দরকার
New Union Territory: বিহার ও বাংলাকে ভেঙে নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হবে? আসল কথা জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার